রেশম পথের কোলে কোলে, পর্ব -৩

সিলারিগাঁও থেকেই কাছেই রামধুরা ও ইচ্ছেগাঁও অত্যন্ত সুন্দর দুটি জায়গা। অনেকেই রামধুরা বা ইচ্ছেগাঁও তে রাত্রি বাস করে থাকেন। রামধুরা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মাথার ওপরে সূর্যোদয়ের দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। মাত্র ৫০০০ ফুট অবস্থিত পাইন গাছে ছাওয়া এই রামধুরা গ্রামটি কালিম্পঙের ডেলো থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এবং শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৮৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই জন্য কালিম্পঙের সাথে রামধুরাতেও স্বচ্ছন্দে এক রাত কাটিয়ে যাওয়া যায়। রামধুরাতেও থাকবার জন্য অনেক হোম স্টে রয়েছে। যদিও আগেই বলেছি এখানকার সমস্ত হোমস্টে গুলিতেই খাওয়া দাওয়া প্রায় একই রকম। এই অঞ্চলে প্রচুর সিঙ্কোনার চাষ হয়, যদিও এ ব্যাপারে সরকারি আগ্রহের অভাবে এই চাষ ইদানীং কমে আসছে। অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার কারনে এখানে প্রচুর পাখী দেখা যায় আর দেখতে পাবেন রংবেরঙের অসংখ্য প্রজাপতি।

সিলারিগাঁও থেকেই কাছেই রামধুরা ও ইচ্ছেগাঁও অত্যন্ত সুন্দর দুটি জায়গা। অনেকেই রামধুরা বা ইচ্ছেগাঁও তে রাত্রি বাস করে থাকেন। রামধুরা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মাথার ওপরে সূর্যোদয়ের দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। মাত্র ৫০০০ ফুট অবস্থিত পাইন গাছে ছাওয়া এই রামধুরা গ্রামটি কালিম্পঙের ডেলো থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এবং শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৮৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই জন্য কালিম্পঙের সাথে রামধুরাতেও স্বচ্ছন্দে এক রাত কাটিয়ে যাওয়া যায়। রামধুরাতেও থাকবার জন্য অনেক হোম স্টে রয়েছে। যদিও আগেই বলেছি এখানকার সমস্ত হোমস্টে গুলিতেই খাওয়া দাওয়া প্রায় একই রকম। এই অঞ্চলে প্রচুর সিঙ্কোনার চাষ হয়, যদিও এ ব্যাপারে সরকারি আগ্রহের অভাবে এই চাষ ইদানীং কমে আসছে। অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার কারনে এখানে প্রচুর পাখী দেখা যায় আর দেখতে পাবেন রংবেরঙের অসংখ্য প্রজাপতি।
চাইলে কালিম্পঙের ভিড় এড়িয়ে দিন কয়েকের জন্য হয় রামধুরা অথবা ইচ্ছেগাঁওতে কয়েকটা দিন দুর্দান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে কাটিয়ে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে এখানে থেকেই দেখে নিতে পারেন কালিম্পং, ডেলো পাহাড়, দুরপিন দাড়া, রামিতে দাড়া, রামসাং দুর্গ, পেডং শহর, এমনকি তিনচুলে ভিউ পয়েন্টও। এই রকমই ইচ্ছেগাঁও আরেকটি অতি সুন্দর জায়গা, মুহূর্তেই যা আপনার মন ভালো করে দেবে। মোটামুটি ভাবে এই তিনটে জায়গা অর্থাৎ রামধুরা, ইচ্ছেগাঁও ও সিলারিগাঁও থেকেই পাশাপাশি সব পয়েন্ট গুলো দেখে নেওয়া যায়। তবে সিল্ক রুট ট্যুরের সাথে এগুলোকে না জড়ানোই ভালো। সাধারনত সিল্ক রুট বেড়ানোর প্রথম দিনে সিলারিগাঁও দেখে নিয়ে পরের দিন গুলি সিকিম রাজ্যের পথে বেড়িয়ে পড়াটাই দস্তুর, তবে আপনার হাতে সময় ও সুযোগ থাকলে নিজেদের পছন্দমতো সূচী বানিয়েও নিতে পারেন। এই অংশটায় ইদানীং আরো যে সমস্ত জনপ্রিয় পর্যটন স্থল গুলি ভ্রমনপিপাসুদের মধ্যে অতীব সাড়া জাগিয়েছে সেগুলি হল, চটকপুর, লাভা, লোলেগাঁও, রিশপ, তিনচুলে প্রভৃতি। এই সমস্ত জায়গাগুলি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর সীমায় দার্জিলিং এবং কালিম্পঙের কোল ঘেঁষে অবস্থিত।
এর কাছাকাছি আরো একটি জায়গা এখন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তার নাম কোলাখাম। নেওড়াভ্যালী রিজার্ভ ফরেস্টের অনেকখানি অংশ জুড়ে এই কোলাখামের অবস্থান। চার দিকে উঁচু পাহাড় আর ঘন বনানীর মাঝে এক অসাধারন পরিবেশ এই কোলাখাম। কাছেই একটি ঝর্ণা রয়েছে এখানে। কোলাখাম আপনি কালিম্পং, লাভা, লোলেগাঁওয়ের সাথে বেড়িয়ে নিতে পারেন, তবে অবশ্যই দুটো নিশ্চুপ রাত এখানে এসে কাটিয়ে যাবেন। এখানে গাছে গাছে পাখীরা কথা বলে, অনবরত বয়ে চলা শান্ত শীতল হাওয়া যেন বন্ধুর মতো আপনাকে জড়িয়ে ধরবে, গাছেদের মর্মর ধ্বনি আর বনের মাটির সুগন্ধ আপনাকে একান্ত আপনার করে বুকে জড়িয়ে নিতে চাইবে। কোলাখামকে আপনি ভুলতে চাইলেও পারবেন না এটাতে আমি নিশ্চিত।সিল্ক রুট ট্যুরের সাথেও কোলাখাম বেড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে হয় কোলাখাম দেখে সিকিমের রোলেপ ঘুরে অন্যান্য জায়গা গুলিতে যেতে পারেন অথবা ফেরার পথে পুনরায় রংলি হয়ে রোলেপ বেড়িয়ে কোলাখামে দুদিন কাটিয়ে সেখান থেকে কালিম্পং হয়ে শিলিগুড়ি ফিরতে পারেন। মোট কথা এই সম্পুর্ন অঞ্চলটি বেড়ানো পাগল মানুষদের কাছে এক অতীব মনোরম স্বর্গীয় অঞ্চল। প্রকৃতি দেবী যেন তাঁর সমস্ত রূপ, রস ও আনন্দ উজাড় করে ঢেলে দিয়েছেন এই সমগ্র অঞ্চলটিতে।


চা পর্ব সমাধা করে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে প্রাতঃকৃত্যাদি শেষ করে সদলে হাঁটতে বেরোলাম আমরা। ঘড়িতে সবে সাড়ে ছটা। আমরা চলেছি রামিতে ভিউ পয়েন্ট দেখতে।প্রায় আড়াই কিলোমিটার হাঁটা পথ। আধা জঙ্গলের রাস্তায় নরম ভিজে মাটির পথ। ঝাউ আর পাইনের পাতা ঝরে পড়ে আছে পথে। সোঁদা মন কেমন করা মাটির গন্ধ আসছে নাকে। নির্মল বাতাবরণ। মনে হচ্ছে যেন এই আকাশ, মাটি, গাছপালা, এই স্নিগ্ধ পাখির ডাক, এই নরম নরম রোদ্দুর সব কিছু যেন অপূর্ব শুদ্ধ আর পবিত্র। দৃষ্টি যত দূর প্রসারিত হচ্ছে কেবল পাকদন্ডী পাহাড়ের সারি তার সাথে কখনো খাদের গভীর থেকে কখনো বা পাহাড়ের ওপর থেকে মৃদু থেকে তীব্র সুরে ভেসে আসছে অপার্থিব ঝিঁঝিঁ পোকার সম্মিলিত কলতান সঙ্গীত। একটা ঘোর লাগা তীব্রতর আনন্দের ফেনা বুকের ভেতর থেকে উঠে গলার কাছে টাছে জড়িয়ে ধরেছে যেন।

ছোট্ট একটা বাঁকের পরেই রাস্তাটা সরু হয়ে সামনে উঠে গেলো। কয়েক পা ওপরে উঠতেই অবাক বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। দিগন্ত বিস্তৃত কাঞ্চনজঙ্ঘা, এখান থেকে আরো কাছে, যেন এক্ষুনি ছুঁয়ে ফেলা যাবে। অনেক নীচে বয়ে চলেছে তিস্তা নদী। এতো ওপর থেকে সরু সুতোর মতো লাগছে সেই ধারাকে। ঢেউয়ের পরে ঢেউ, যেন পাহাড়ের ঊর্মিমালা দিগন্ত থেকে অসীমে অনন্তে প্রসারিত হয়ে আছে। নিবিড় এই পাহাড়ের একান্ত চূড়ায় অনেকক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলাম। মনের ভেতর আপনা হতে ঘনিয়ে উঠলো কি এক অসীমের আহ্বান।“ধীরে ধীরে বিকাশো হৃদয় গহনে, বিমল তব মুখভাতি”। প্রায় দু-ঘন্টা পর ফিরে এলাম আমাদের সাময়িক আস্তানায়। এবার যাবার পালা। আজ আমরা যাব মাঙ্খিম। জলখাবার পর্ব মিটিয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হতে হবে।

সিলেরীগাঁও থেকে মাঙ্খিম মাত্র ৫০ কিলোমিটার রাস্তা কিন্ত যেতে সময় লাগে প্রায় পৌনে তিন ঘন্টা। রাস্তা যে খুব একটা ভালো তাও নয়, তবে পাহাড়ী পথের আনাচে কানাচে প্রতিনিয়তই কত শত বৈচিত্র্য যে উদ্ঘাটিত হয় তার ইয়ত্তা নেই। এই পুরো অঞ্চলেই প্রচুর বড়ো এলাচের চাষ হয়। পাহাড়ের ধাপে ধাপে, বাড়ীর উঠোনে, রাস্তায়, খাদের পাশে সর্বত্রই বড়ো বড়ো পাতার আর ঈষৎ খয়েরি রঙা কান্ডের এই গাছ হামেশাই চোখে পড়ে। এই অঞ্চলের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দায় বহন করে চলেছে এই মশলার চাষ। প্রায় একই রকম দেখতে কেবল লম্বায় বড়ো আর মাঝখান দিয়ে লম্বা শীষযুক্ত আরো একটি গাছ পাহাড়ের এই অঞ্চলে দেখা যায়, যার ঐ শীষ থেকে ফুল ঝাড়ূ তৈরি হয়। আরো যে কত রকমের অজস্র ফুল কত নাম না জানা অসংখ্য লতাগুল্ম পাহাড় আলো করে নিতান্ত অবহেলার মধ্যেও কেবল মাত্র এই বিশ্ব ভুবনকে রঙিন করবার আনন্দেই যে ফুটে আছে তা বর্ণনা করা আমার দুঃসাধ্য। দেখতে দেখতে আরিতার পৌঁছে গেলাম। আজ আমরা আরিতারে থাকবনা, একটা রাত মাঙ্খিমে কাটিয়ে কাল সকালে আরিতারে আসবো। আরিতারের ঠিক এক পাহাড় উঁচুতেই মাঙ্খিম। সবুজ উত্তুঙ্গ নিমেষহীন পাহাড়ের সারি, সারির পর সারি, দেখতে দেখতে একটা পাহাড়ের সরু বাঁকে গাড়ী এসে দাঁড়ালো। ডান দিকে খাড়া উঁচু পাহাড়, বাঁ দিকে খাদ, খাদের পাশ দিয়ে একটা আয়তাকার লম্বা এক খণ্ড খালি জমি। দূরে ঐ জমির শেষ প্রান্তে উঁচুতে বেশ কয়েকটি ঘরের সারি দেখা যাচ্ছে। সারির ওপরে সারি, তার ওপরেও সারি, তারও ওপরে একটা সিমেন্টের তৈরি বিরাট রঙিন ছাতার মতন কি একটা দেখা যাচ্ছে। এটা প্রভা রাইয়ের আর ওঁর ভাইয়ের বাড়ী। আমাদের আজকের বাসস্থান। ওপর থেকে আলের মতো রাস্তা ধরে অনেক গুলো ছেলে নেমে এলো। আমাদের মাল পত্র ওরাই পিঠে করে, মাথায় করে বাড়ীতে নিয়ে চললো।

ছোট্ট একটা বাঁকের পরেই রাস্তাটা সরু হয়ে সামনে উঠে গেলো। কয়েক পা ওপরে উঠতেই অবাক বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। দিগন্ত বিস্তৃত কাঞ্চনজঙ্ঘা, এখান থেকে আরো কাছে, যেন এক্ষুনি ছুঁয়ে ফেলা যাবে। অনেক নীচে বয়ে চলেছে তিস্তা নদী। এতো ওপর থেকে সরু সুতোর মতো লাগছে সেই ধারাকে। ঢেউয়ের পরে ঢেউ, যেন পাহাড়ের ঊর্মিমালা দিগন্ত থেকে অসীমে অনন্তে প্রসারিত হয়ে আছে। নিবিড় এই পাহাড়ের একান্ত চূড়ায় অনেকক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলাম। মনের ভেতর আপনা হতে ঘনিয়ে উঠলো কি এক অসীমের আহ্বান।“ধীরে ধীরে বিকাশো হৃদয় গহনে, বিমল তব মুখভাতি”। প্রায় দু-ঘন্টা পর ফিরে এলাম আমাদের সাময়িক আস্তানায়। এবার যাবার পালা। আজ আমরা যাব মাঙ্খিম। জলখাবার পর্ব মিটিয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হতে হবে।
সিলেরীগাঁও থেকে মাঙ্খিম মাত্র ৫০ কিলোমিটার রাস্তা কিন্ত যেতে সময় লাগে প্রায় পৌনে তিন ঘন্টা। রাস্তা যে খুব একটা ভালো তাও নয়, তবে পাহাড়ী পথের আনাচে কানাচে প্রতিনিয়তই কত শত বৈচিত্র্য যে উদ্ঘাটিত হয় তার ইয়ত্তা নেই। এই পুরো অঞ্চলেই প্রচুর বড়ো এলাচের চাষ হয়। পাহাড়ের ধাপে ধাপে, বাড়ীর উঠোনে, রাস্তায়, খাদের পাশে সর্বত্রই বড়ো বড়ো পাতার আর ঈষৎ খয়েরি রঙা কান্ডের এই গাছ হামেশাই চোখে পড়ে। এই অঞ্চলের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দায় বহন করে চলেছে এই মশলার চাষ। প্রায় একই রকম দেখতে কেবল লম্বায় বড়ো আর মাঝখান দিয়ে লম্বা শীষযুক্ত আরো একটি গাছ পাহাড়ের এই অঞ্চলে দেখা যায়, যার ঐ শীষ থেকে ফুল ঝাড়ূ তৈরি হয়। আরো যে কত রকমের অজস্র ফুল কত নাম না জানা অসংখ্য লতাগুল্ম পাহাড় আলো করে নিতান্ত অবহেলার মধ্যেও কেবল মাত্র এই বিশ্ব ভুবনকে রঙিন করবার আনন্দেই যে ফুটে আছে তা বর্ণনা করা আমার দুঃসাধ্য। দেখতে দেখতে আরিতার পৌঁছে গেলাম। আজ আমরা আরিতারে থাকবনা, একটা রাত মাঙ্খিমে কাটিয়ে কাল সকালে আরিতারে আসবো। আরিতারের ঠিক এক পাহাড় উঁচুতেই মাঙ্খিম। সবুজ উত্তুঙ্গ নিমেষহীন পাহাড়ের সারি, সারির পর সারি, দেখতে দেখতে একটা পাহাড়ের সরু বাঁকে গাড়ী এসে দাঁড়ালো। ডান দিকে খাড়া উঁচু পাহাড়, বাঁ দিকে খাদ, খাদের পাশ দিয়ে একটা আয়তাকার লম্বা এক খণ্ড খালি জমি। দূরে ঐ জমির শেষ প্রান্তে উঁচুতে বেশ কয়েকটি ঘরের সারি দেখা যাচ্ছে। সারির ওপরে সারি, তার ওপরেও সারি, তারও ওপরে একটা সিমেন্টের তৈরি বিরাট রঙিন ছাতার মতন কি একটা দেখা যাচ্ছে। এটা প্রভা রাইয়ের আর ওঁর ভাইয়ের বাড়ী। আমাদের আজকের বাসস্থান। ওপর থেকে আলের মতো রাস্তা ধরে অনেক গুলো ছেলে নেমে এলো। আমাদের মাল পত্র ওরাই পিঠে করে, মাথায় করে বাড়ীতে নিয়ে চললো।
ঠিক আল নয়, তবে আলের মতো, একটু বেশী চওড়া। পায়ের তলায় ভিজে ঘাস আর মাটি মাড়িয়ে আস্তে আস্তে বাড়ীতে গিয়ে পৌঁছলাম আমরা। নীচে প্রথম ধাপে তিনটে বেশ বড়ো বড়ো ঘর, একটু ভেতরে আরো তিন খানা ঘর, পরের ঘর গুলোয় প্রভা দিদি তার পরিবার নিয়ে বাস করেন, ওদের ঘরের পাশ দিয়ে সামান্য নীচে সিঁড়ির ধাপ, কয়েক ধাপ নেমে লম্বাটে ধরনের বিস্তৃত ডাইনিং হল। ওপরের দ্বিতীয় ধাপে প্রায় আরো চার খানা বড়ো বড়ো ঘর, তার বাঁ দিকে সামান্য নীচে আরো দুখানা ঘর। পুরো ধাপ গুলোতেই সুন্দর করে ফুলের কেয়ারী করে রাখা, ধাপে ওঠার সরু পথের দু পাশে মোটা লোহার তারে সরু সরু তার দিয়ে ঝুলিয়ে বাঁধা ছোট ছোট মাটির হাঁড়িতে কত রঙ বে রঙের বাহারী অর্কিড, গুনে শেষ করা যায়না। সব ঘরে গরম জল ঠান্ডা জলের ব্যবস্থা। বেশ নিখুঁত পরিপাটি আয়োজন। এতেই মন ভালো হয়ে গেলো, কে জানতো এর পরেও আরো অনেক কিছু রয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপের সিঁড়ি পেরিয়ে তৃতীয় ধাপে উঠতেই অবাক বিস্ময়ে মন জুড়িয়ে গেল। বেশ বড়ো চাতাল, রেলিং দিয়ে ঘেরা, এক ধারে সিমেন্টের একটা বিরাট রঙিন ছাতা। ছাতার নীচে আর রেলিঙয়ের পাশে পাশে লোহার চেয়ার পাতা। ঠিক নীচে অতল স্পর্শী খাদ, আর সামনে কেবল পাহাড়, পাহাড় আর পাহাড়, আদিগন্ত পাহাড়ের ঢেউ যেন। পুঞ্জ পুঞ্জ সাদা মেঘের রাশি জড়িয়ে রয়েছে পাহাড়ের চূড়ায়। অপূর্ব দৃশ্য। ডান দিকে অনেক নীচে আরিতার লেকের শেষ অংশ দেখা যাচ্ছে। এ এক অসাধারন মুহূর্ত। শুনলাম ভোরবেলায় এইখান থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরে প্রথম সূর্য রশ্মির উদ্ভাসন এক মনে রাখার মতো দৃশ্য। করজোড়ে মিনতি জানালাম প্রকৃতি দেবীর উদ্যেশ্যে, মেঘমুক্ত নির্মল আকাশের জন্য প্রার্থনা।
নীচে থেকে ডাক এলো মধ্যাহ্ন ভোজনের। ভাত, পেঁয়াজ দেওয়া মুসুরির ডাল, লেবু, লঙ্কা ও আচার সহযোগে, লাউয়ের তরকারি, ডিমের ডালনা, চাটনি, পাঁপড়। ভরপেট খাওয়ার শেষে চোখ যেন জুড়িয়ে এলো। ঘরে এসে পরিচ্ছন্ন বিছানায় কম্বলের নীচে আবেশে চোখ বুজে শুতেই গভীর ঘুম নেমে এলো দু চোখ জুড়ে। ঘরের ভেতর খুটখাট আওয়াজ আর মৃদু স্বরে দু-চারজনের কথাবার্তায় আচমকাই ঘুম ভেঙে গেলো। ঘরের ভেতর সন্ধ্যার আলো জ্বলছে। পাশের ব্যালকনির খোলা দরজা দিয়ে তীব্র ঠান্ডা হাওয়া আসছে ঘরে। বাইরে সদ্য ঘন হয়ে আসা জমাট অন্ধকার।

আমাদের দলের অল্প বয়সী দু জন অতি উৎসাহী বন্ধু প্রভাদির বাড়ীর ছেলেদের দিয়ে গ্রাম থেকে দেশীয় এক পানীয় আনিয়েছে, সাথে ডিম সেদ্ধ আর গোল গোল করে কাটা কাঁচা পেঁয়াজ আর টম্যাটো। আমাদের ঘরের সেন্টার টেবিলে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে সেই বস্তু গুলো সেই মুহূর্তে। মোটা ফাঁপা বাঁশের এক মুখ খোলা, নীচের প্রান্তটি গাঁট যুক্ত হবার কারনে বন্ধ, সেই বাঁশের ভেতর পোস্ত বেটে ঢুকিয়ে আরো কিছু জিনিষ সম্ভবত মিশিয়ে এক বিশেষ ধরনের স্থানীয় মদ প্রস্তুত হয় এই অঞ্চলে। স্থানীয়রা একে ‘ছাং’ বলে। সঙ্গে এক কেটলি গরম জলও দিয়ে গেছিল ছেলে গুলো। ওই গরম জল মাঝে মাঝে ওই লম্বা বাঁশের পাত্রে ঢেলে দিতে হবে সে নির্দেশও দিয়ে গেছিল তারা। তীব্র ঝাঁঝালো এক রকমের ভয়ানক কটু গন্ধ (পড়ুন দুর্গন্ধ) সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এমন এক ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হলো যে কোনরকমে বাথরুমে ঢুকে চোখে মুখে জলের ঝাপ্টা দিয়ে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।পরে দলের এই রসের রসাসিক্ত রসিক দাদা ও ভাইদের কাছে শুনেছি যে এই পানীয় মোটেই বিস্বাদ নয়, এবং অন্যান্য মাদক পানীয়র মতো এই মদে নাকি নেশাও খুব একটা হয় না, তবে ঠান্ডায় শরীর গরম রাখবার জন্য এটা নাকি খুবই অনূকুল। সবই শোনা কথা, আমি এই রসের দ্বারা প্রভাবিত নই, তাই ধারনাও কম।
আমাদের দলের অল্প বয়সী দু জন অতি উৎসাহী বন্ধু প্রভাদির বাড়ীর ছেলেদের দিয়ে গ্রাম থেকে দেশীয় এক পানীয় আনিয়েছে, সাথে ডিম সেদ্ধ আর গোল গোল করে কাটা কাঁচা পেঁয়াজ আর টম্যাটো। আমাদের ঘরের সেন্টার টেবিলে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে সেই বস্তু গুলো সেই মুহূর্তে। মোটা ফাঁপা বাঁশের এক মুখ খোলা, নীচের প্রান্তটি গাঁট যুক্ত হবার কারনে বন্ধ, সেই বাঁশের ভেতর পোস্ত বেটে ঢুকিয়ে আরো কিছু জিনিষ সম্ভবত মিশিয়ে এক বিশেষ ধরনের স্থানীয় মদ প্রস্তুত হয় এই অঞ্চলে। স্থানীয়রা একে ‘ছাং’ বলে। সঙ্গে এক কেটলি গরম জলও দিয়ে গেছিল ছেলে গুলো। ওই গরম জল মাঝে মাঝে ওই লম্বা বাঁশের পাত্রে ঢেলে দিতে হবে সে নির্দেশও দিয়ে গেছিল তারা। তীব্র ঝাঁঝালো এক রকমের ভয়ানক কটু গন্ধ (পড়ুন দুর্গন্ধ) সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এমন এক ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হলো যে কোনরকমে বাথরুমে ঢুকে চোখে মুখে জলের ঝাপ্টা দিয়ে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।পরে দলের এই রসের রসাসিক্ত রসিক দাদা ও ভাইদের কাছে শুনেছি যে এই পানীয় মোটেই বিস্বাদ নয়, এবং অন্যান্য মাদক পানীয়র মতো এই মদে নাকি নেশাও খুব একটা হয় না, তবে ঠান্ডায় শরীর গরম রাখবার জন্য এটা নাকি খুবই অনূকুল। সবই শোনা কথা, আমি এই রসের দ্বারা প্রভাবিত নই, তাই ধারনাও কম।
চলবে.................................................................................................


0 মন্তব্যসমূহ
Please do not enter any spam link in the comment box.