অরুণাচল প্রদেশ ভ্রমণ, পর্ব - ১
বিশাল এবং বৈচিত্রময় আমাদের এই দেশ ভারতবর্ষ। উত্তর থেকে দক্ষিনে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে সহস্র সহস্র যোজন ব্যাপী এর বিস্তার। দক্ষিনে বিস্তারিত ভারত মহাসাগর, পূর্ব উপকুল থেকে পশ্চিম উপকুল পর্যন্ত তরঙ্গায়িত আরো দুই সমুদ্র, বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর। আর সমগ্র উত্তর প্রান্ত জুড়ে বিরাজিত মহামহিম হিমালয়। আমাদের দেশের উত্তর অংশ জুড়ে যেমন অনেকগুলি পাহাড়ী রাজ্যের অবস্থান, ঠিক একই রকম ভাবে সমগ্র উত্তর পূর্বে হিমালয়ের কোল ঘেঁষে অবস্থান করছে একসাথে আরো আটটি পার্বত্য রাজ্য। এগুলি হল, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং সিকিম রাজ্য। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো এবং প্রান্তিক রাজ্য হলো অরুণাচল প্রদেশ।
ভারতের উত্তর
পূর্ব প্রান্তের শেষ সীমায় অবস্থানকারি এই রাজ্যের কেবল দক্ষিন অংশে আমাদের দেশের দুই
রাজ্য, আসাম ও নাগাল্যান্ড, তাই আমাদের দেশের যে কোনো অংশ থেকে অরুনাচল আসার জন্য হয়
নাগাল্যান্ড অথবা আসাম রাজ্য হয়েই আস্তে হবে। বেশীর ভাগ পর্যটক তাই আসামের রাজধানী
গৌহাটী অথবা আসাম রাজ্যের আরেকটি বিখ্যাত বড়ো
শহর তেজপুর হয়ে অরুণাচলে প্রবেশ করে থাকেন। এই রাজ্যের বাকি তিনদিকই কিন্তু আন্তর্জাতিক
সীমান্ত দিয়ে ঘেরা। পশ্চিমে ভুটান, পূর্ব দিকে ব্রহ্মদেশ যা বর্তমানে মায়ানামার নামে সুপরিচিত, এবং সম্পূর্ণ
উত্তর দিক চীন দেশের সঙ্গে সীমান্ত দ্বারা বাঁধা হয়ে আছে। পরাধীন ভারতবর্ষের ব্রিটিশ
শাসক ১৯১২-১৩ সালে শাসন কার্যের সুবিধার জন্য উত্তর পূর্ব ভারতের এই অঞ্চলটিকে নর্থ
ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি বা নেফা নামে চিহ্নিত করেন। দেশ স্বাধীন হবার পরে এই অঞ্চলের
গুরুত্বের কথা চিন্তা করে স্বাধীন ভারতের সরকার মাত্র ১৯৭২ সালে এই নেফা অঞ্চলটিকে
কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল রূপে ঘোষনা করেন এবং এই
অঞ্চলের নতুন নামকরণ হয় অরুণাচল বা উদিত সূর্যের দেশ। মাত্র ১৯৮৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী
এই অরুণাচল প্রদেশ আমাদের দেশের আরেকটি রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
প্রায় চুরাশি
হাজার বর্গ কিলোমিটারের এই রাজ্যের জনসংখ্যা গত ২০১১ সালের জনগননার তথ্য অনুসারে মাত্র
১৩ লক্ষ তিরাশি হাজারের কাছাকাছি। মহামহিম হিমালয়ের করতলে শুয়ে থাকা এই রাজ্যে মিশ্র
জনগোষ্ঠী লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপ্রিয়, নির্বিরোধী এই রাজ্যের অধিবাসীদের ভেতর প্রায়
তিরিশ শতাংশ মানুষ খ্রীষ্টান, উনত্রিশ শতাংশ মানুষ হিন্দু, প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষ “ডনি
পোলো” নামের একটি ধর্মে বিশ্বাসী যারা চাঁদ
এবং সূর্যের উপাসনা করে থাকেন এবং এরা সাধারনত প্রকৃতির উপাসক বলেই পরিচিত, আর প্রায়
১২ শতাংশ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি যে মহাযান বৌদ্ধধর্মের অন্যতম
ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত তাওয়াং মনাস্ট্রী এই অরুণাচল রাজ্যেই অবস্থিত, যেটি সমগ্র এশিয়া
মহাদেশের ভেতর দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং ভারতবর্ষের বৌদ্ধ স্থাপনাগুলির ভেতর সর্ব বৃহৎ বলে
বিবেচিত হয়ে থাকে।
অরুণাচল রাজ্যের
রাজধানী ইটানগর।রেলপথে ইটানগর পৌছতে হলে গৌহাটি থেকে ট্রেনে অরুনাচলের নহরলগুন অথবা
আসামের হারমুটি স্টেশনে নেমে সেখান থেকে বাসে বা গাড়ীতে যেতে হবে। তবে সড়কপথে গৌহাটি
থেকে গাড়ীতে ইটানগর যাওয়াটাই সুবিধেজনক। এছাড়াও বিমানপথে কলকাতা অথবা গৌহাটি থেকে এয়ার
ইন্ডিয়ার বিমানে আসামের উত্তর লখিমপুরে অবস্থিত লীলাবাড়ি বিমানবন্দরে নেমে ইটানগর পৌঁছনো
যায়, লীলাবাড়ি বিমানবন্দর থেকে ইটানগর শহরের দূরত্ব মাত্র ৫৭ কিলোমিটার।
কোথায় বেড়াবেন
অসাধারণ প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যের জন্য অরুণাচল প্রদেশ সমস্ত পর্যটকদের অতি প্রিয় গন্তব্যস্থল। পর্যটনের সুবিধার্থে
অরুণাচল প্রদেশের পর্যটন স্থল গুলিকে প্রায় ১২টি সার্কিটে ভাগ করা হয়েছে। তবে আমাদের
আলোচনার সুবিধার্থে আমি সেইগুলোর ভেতর থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে সার্কিট সেইটা নিয়েই
আলোচনা করবো
সাধারনত গৌহাটি
থেকে তেজপুর হয়ে সোজা উত্তরে তাওয়াং পর্যন্ত যে অসামান্য জায়গাগুলি রয়েছে, পর্যটকেরা
সেই জায়গাগুলিতেই বেড়াতে বেশী আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। আরো একটি সার্কিটে ভালুকপং ও
জিরো কে নিয়ে বেড়াতেও পর্যটকদের উৎসাহ দেখতে পাওয়া যায়, তবে আগের উল্লেখিত সারকিটটাই
সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়।
সরকারি অনুমতিপত্র
আপনি যদি অরুনাচল
বেড়াতে যাবেন বলে ভেবে থাকেন তাহলে জেনে রাখুন ভারতীয় পর্যটকেদের জন্য অরুণাচল বেড়াতে
হলে প্রথমেই সরকারি অনুমতিপত্র বা ইনার লাইন পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। ইনার লাইন
পারমিট দেওয়া হয় দিল্লী, কোলকাতা এবং গৌহাটির অরুনাচল হাউস থেকে।এর জন্য বেশ কয়েক মাস
আগে আপনার সম্পূর্ণ ভ্রমন সূচী উল্লেখ করে নির্দিষ্ট আবেদন পত্রে আবেদন করতে হবে। বর্তমানে
অনলাইনেও আবেদন করা যায়। বিদেশী নাগরিকেরা কেবলমাত্র দিল্লীতে আবেদন করবেন। বিদেশী
নাগরিকেদের জন্য আই এল পি নয়, ভারত সরকারের বিশেষ অনুমতিপত্রের দরকার হয়।
আমার প্রস্তাবিত ভ্রমন সূচী
যেহেতু অরুণাচল
প্রদেশে যাওয়া এবং ফেরার জন্য আমরা আসাম রাজ্যটিকেই ব্যবহার করবো এবং আমার প্রস্তাবিত
সার্কিটটি আসামের রাজধানী গৌহাটি অথবা আরেকটি বড় শহর তেজপুর থেকেও শুরু করা যায় তাই
প্রথমেই ঠিক করুন আপনি কোন জায়গা থেকে যাত্রা শুরু করবেন।
আসামের তেজপুর শহর রেলপথে
এবং সড়কপথে ঐ রাজ্যের অন্য জায়গাগুলির সঙ্গে খুব ভালোভাবেই সংযুক্ত এবং বায়ুপথেও তেজপুর
কোলকাতা এবং গৌহাটির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।
আপনি সরাসরি বিমানে তেজপুর পৌছতে পারেন অথবা আপনি দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সরাসরি
বায়ুপথে বা রেলপথে আসামের রাজধানী গৌহাটিতে পৌঁছে সেখান থেকেই সড়কপথে অরুণাচল সফর শুরু
করতে পারেন। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আরো একটি সুবিধে এই যে আপনি যদি আগে গৌহাটি না এসে
থাকেন তাহলে একটা দিন গৌহাটিতে বেড়িয়ে নিয়ে এবং রাত্রিবাস করে পরদিন যাত্রা শুরু করতে
পারেন। আবার যেহেতু আমাদের গৌহাটি থেকে যাত্রাপথের প্রায় মাঝামাঝি পড়বে আসামের বিখ্যাত
কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান তাই যদি আপনি ইচ্ছা করেন তাহলে সেখানেও এক রাত্তির কাটিয়ে
পরেরদিন আবার যাত্রা শুরু করতে পারেন।
আমি আমার ভ্রমন সূচীতে এই দুটি জায়গাকে যুক্ত
করেই বিবরনী প্রস্তুত করেছি। আপনারা ইচ্ছা করলে সূচীটিকে নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তন করে নিতে
পারবেন।
প্রথম দিন। গৌহাটি।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
যদি বিমানে আসেন তাহলে চেষ্টা করবেন সকালের ফ্লাইটে গৌহাটি পৌঁছে যাবার। আর যদি ট্রেনে আসেন তাহলেও এমন ট্রেনে পৌঁছতে চেষ্টা করুন যেটা সকালবেলা গৌহাটি পৌঁছচ্ছে। হোটেলে পৌঁছে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে বেড়িয়ে পড়তে পারেন। আমাদের আজ সকালের প্রথম গন্তব্য গৌহাটির বিখ্যাত কামাখ্যা মন্দির।
আপনি হোটেল থেকে জলখাবার খেয়েও বেরোতে পারেন অথবা মন্দিরে পুজো দেবার পরে মন্দিরের
বাইরে এসেও জলখাবার খেতে পারেন। মনে রাখবেন
এই মন্দিরে খুব ভিড় হয়। দর্শনের জন্য অনেক গুলি আলাদা আলাদা লাইন হয়, তবে টিকিট কেটে
দর্শনের জন্য যে লাইন তা’তে একটু কম সময় লাগে। যাই হোক, মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে জলখাবার
খেয়ে এবার চলুন আমরা যাব কামাখ্যা মায়ের ভৈরব উমানন্দ মন্দির দর্শন করতে। আপনি প্রথমে
উমানন্দ মন্দির এবং তারপরে কামাখ্যা মন্দিরও দর্শন করতে পারেন।
উমানন্দ ভৈরব মন্দির
যেতে হলে আপনাকে জেটিতে টিকিট কেটে বড় নৌকায় বা ভেসেলে চেপে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দিয়ে
ভেসে উমানন্দ দ্বীপে এসে নামতে হবে। এই যাত্রাপথটি
অতীব মনোরম। দ্বীপটিও অত্যন্ত সুন্দর এবং পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত। বাবা উমানন্দ ভৈরবের
পুজো দিয়ে আবার গৌহাটি জেটিতে ফিরে আসুন।
মধ্যাহ্ন ভোজনের পর চলুন বশিষ্ঠ আশ্রম ও মন্দির
দর্শন করতে। বলা হয় প্রাচীন ঋষি বশিষ্ঠ মুনির আবাসস্থল এবং আশ্রম ছিল এইখানে।
এখান থেকে এবার চলুন বালাজী মন্দির দেখতে। অনেকখানি জায়গা জুড়ে এই অপূর্ব মন্দির কমপ্লেক্সটি তৈরি হয়েছে। এইখানে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে এবার হোটেলে ফিরে চলুন।
সন্ধ্যে বেলায় নিজেদের উদ্যোগে পায়ে হেঁটে অথবা অটো নিয়ে গৌহাটির বাজারে
ঘুরতে পারেন। খুব জমজমাট, প্রাণবন্ত এবং ব্যস্ত এই রাজধানী শহর গৌহাটি। আমি নিশ্চিত
যে এই শহর আপনার ভালো লাগবে।
দ্বিতীয় দিন। কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
খুব সকাল সকাল জল খাবার খেয়েই বেড়িয়ে পড়ুন। আজ আমরা যাব আসামের বিখ্যাত জাতীয় উদ্যান কাজিরাঙ্গা ফরেস্ট। এই উদ্যান এখানকার একশৃঙ্গ গন্ডারের জন্য বিখ্যাত।
![]() |
| Arunachal pradesh tour |
প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই গন্ডার দেখবার জন্য এখানে আসেন। মনে রাখবেন প্রতি বছর মোটামুটি ভাবে এপ্রিল মাসের শেষে এই উদ্যান বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার অক্টোবর মাসের শেষের দিকে খোলে। ঐ সময় উদ্যানের পশুপাখীদের প্রজনন সময় বলে উদ্যান বন্ধ থাকে। উদ্যান বন্ধ হবার সঠিক তারিখ এবং সময় উদ্যানের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে পারেন।
গৌহাটি থেকে কাজিরাঙ্গা
প্রায় দুশো কিলোমিটার রাস্তা। যেতে কম বেশী পাঁচ ঘন্টা সময় লাগবে। দুপুর দুপুর কাজিরাঙ্গার
হোটেলে পৌঁছে তাড়াতাড়ি মধ্যাহ্ন ভোজন সেরে নিন। এরপরে চলুন জঙ্গলের ভেতর জিপে চড়ে বিকেলের
সাফারি উপভোগ করতে।
আপনার হোটেলকে বা ট্যুর অপারেটরকে অবশ্যই আগে থেকে বলে রাখবেন যাতে তারা এই ব্যাপারে আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রাখতে পারেন।
সন্ধ্যে বেলা হোটেলে ফিরে আসুন এবং তাড়াতাড়ি খাওয়াদাওয়া করে শুয়ে পড়ুন।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
আপনার হোটেলকে বা ট্যুর অপারেটরকে অবশ্যই আগে থেকে বলে রাখবেন যাতে তারা এই ব্যাপারে আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রাখতে পারেন।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
সন্ধ্যে বেলা হোটেলে ফিরে আসুন এবং তাড়াতাড়ি খাওয়াদাওয়া করে শুয়ে পড়ুন।
তৃতীয় দিন। কাজিরাঙ্গা থেকে ভালুকপং।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
আজ খুব সকালে উঠে মুখ হাত ধুয়ে সকালের সাফারি উপভোগ করতে বেড়িয়ে পড়তে পারেন। কাজিরাঙ্গা জঙ্গলের ভেতর হাতীর পিঠে চেপে গন্ডার দেখতে যাবার মজাই আলাদা।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
যদি এই সাফারি করতে চান তাহলে অতি অবশ্যই হোটেল কে অথবা আপনার ট্যুর অপারেটরকে আগে থেকে জানিয়ে রাখুন। এই সাফারির চাহিদা বেশী এবং নিয়ে যাবার হাতীর সংখ্যা সেই তুলনায় কম থাকার কারনে আগে থেকে এলিফ্যান্ট সাফারির কথা জানিয়ে টিকিটের ব্যবস্থা না করা থাকলে অসুবিধে হতে পারে। সাফারি শেষ করে হোটেলে ফিরে জলখাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে পড়ুন। আজ আমরা যাব অরুণাচল প্রদেশে আমাদের প্রথম বেড়াবার শহর ভালুকপং।
কাজিরাঙ্গা থেকে ভালুকপং মোটামুটি প্রায় ১২০ কিলোমিটার রাস্তা, যেতে কম বেশী আড়াইঘন্টা সময় লাগতে পারে। চেষ্টা করবেন সকাল ন’টা থেকে সাড়ে ন’টার ভেতরে কাজিরাঙ্গা থেকে বেড়িয়ে পড়তে। পথে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপরে বিস্তীর্ণ সেতু পেরিয়ে অপূর্ব প্রকৃতির শোভা দুচোখ ভরে দেখে নিতে নিতে এগিয়ে চলুন।
দুপুরে ভালুকপং পৌঁছে মধ্যাহ্ন ভোজন শেষ করে নিয়ে পায়ে পায়ে বেড়িয়ে পড়ুন।
ভালুকপংকে বলা
হয় অরুণাচলের প্রবেশতোরণ। মহাভারতে বর্ণিত বাণ রাজাদের রাজ্য ছিল এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল
জুড়ে। বাণ রাজার পূর্বপুরুষ রাজা ভালুকের নাম অনুসারে এই জায়গার নাম ভালুকপং।
কামেং নদীর তীরে অবস্থিত এক অপরুপ স্বর্গীয় প্রশান্তি ভরা স্থান এই ভালুকপং। এই ছোট্ট পাহাড়ী জায়গাটিতে আপনাকে পায়ে পায়েই বেড়িয়ে নিতে হবে। তবে অবশ্যই সন্ধ্যে নামার আগেই হোটেলে ফিরে আসুন। এখানে রাতের দিকে মাঝে মাঝেই শোনা যায় বন্য জন্তুদের উৎপাতের কথা। তাই অন্ধকার নেমে গেলে বাইরে না থাকাই ভালো।
ভালুকপঙের অমলিন পরিবেশ এবং বিশেষ করে কামেং নদীর দুরন্ত মন কেমন করা সৌন্দর্যের জন্য বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছা করবে এখানে।
অনেকদিন এই ভালুকপঙের স্মৃতি আপনার মনের মনিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। তাড়াতাড়ি রাতের খাওয়া শেষ করে শুয়ে পড়ুন।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
কামেং নদীর তীরে অবস্থিত এক অপরুপ স্বর্গীয় প্রশান্তি ভরা স্থান এই ভালুকপং। এই ছোট্ট পাহাড়ী জায়গাটিতে আপনাকে পায়ে পায়েই বেড়িয়ে নিতে হবে। তবে অবশ্যই সন্ধ্যে নামার আগেই হোটেলে ফিরে আসুন। এখানে রাতের দিকে মাঝে মাঝেই শোনা যায় বন্য জন্তুদের উৎপাতের কথা। তাই অন্ধকার নেমে গেলে বাইরে না থাকাই ভালো।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
ভালুকপঙের অমলিন পরিবেশ এবং বিশেষ করে কামেং নদীর দুরন্ত মন কেমন করা সৌন্দর্যের জন্য বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছা করবে এখানে।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
অনেকদিন এই ভালুকপঙের স্মৃতি আপনার মনের মনিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। তাড়াতাড়ি রাতের খাওয়া শেষ করে শুয়ে পড়ুন।
চতুর্থ দিন। ভালুকপং থেকে দিরাং।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
আজ খুব তাড়াতাড়ি আমাদের বেরোতে হবে।আজ আমরা যাব অরুণাচল প্রদেশের আরেকটি অত্যন্ত সুন্দর জায়গা দিরাঙে।ভালুকপং থেকে দিরাং মোটামুটি ১৫০ কিলোমিটার রাস্তা, তবে পাহাড়ী পথে এবং যেহেতু ভালুকপঙের পর থেকে আমাদের বাকি সমস্ত গন্তব্য স্থলের রাস্তা বেশ খারাপ, তাই যথেষ্ট সময় লাগবে দিরাং যেতে। আমাদের আজকের যাত্রাপথ সেইজন্য কমবেশি সাড়ে পাঁচঘন্টা সময় নেবে দিরাং পৌঁছতে।
| Arunachal Pradesh tour |
আরো একটা বিষয় এই প্রসঙ্গে বলে রাখি। ভালুকপং থেকে বেরিয়ে সামান্য দূরত্ব পরেই সেসা নামে একটি জায়গায় ১৩ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর একটি অর্কিড গবেষণাগারের সামনেই সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্ট রয়েছে। এই চেকপোষ্ট প্রতিদিন ঠিক সকাল নটায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং আবার দুপুর ঠিক দুটোতে চালু করে। তাই যে করেই হোক হাইওয়ের ওপর এই চেকপোস্ট আপনাকে সকাল নটার আগে পেরিয়ে যেতেই হবে। তাই আজ বেরোতে একেবারেই দেরি করবেন না।দরকার হলে শুকনো খাবার সঙ্গে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন, যা গাড়িতে বসেও খেয়ে নিতে পারবেন। কারন এই চেকপোস্টে আটকে গেলে পাঁচ ঘন্টা আটকে থাকতে হবে।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
আজ ভালুকপং থেকে বেরিয়ে প্রথমেই দেখে নেবো অর্কিড রিসার্চ সেন্টার। এখান থেকে বেড়িয়ে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পরে রাস্তার বাঁ দিকে পাহাড়ের ওপর রয়েছে নাগ মন্দির। স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই স্থানটি। জায়গাটির অবস্থান অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
নাগ মন্দির দেখে নিয়ে আবার এগোনো। অরুণাচল প্রদেশের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর বোমডিলা পেরিয়ে আমরা আজ দিরাং যাব। ফেরার পথে আমরা বোমডিলাতে একরাত থাকবো, কিন্তু আজ আমরা সোজা যাব দিরাং।
![]() |
| Arunachal Pradesh tour |
দিরাং একটি ছবির মতো সাজানো ছোট্ট জনপদ। ঢেউ তোলা পাহাড়ের শ্রেনীর মাঝখানে নির্মল শান্ত একখানি আশ্রয় যেন।এই সজীব সবুজ ছায়া ঘেরা জনপদটির বুকের মাঝখান দিয়ে কলকল শব্দে বয়ে চলেছে স্রোতস্বিনী কামেং নদী। বস্তুত এই নদীর নামেই অরুণাচল প্রদেশের এই জেলাটির নাম পশ্চিম কামেং জেলা। এই কামেং নদী আরও উত্তরের তাওয়াং জেলায় অবস্থিত অরুণাচল রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বত গোরি চেন, যার উচ্চতা ২০হাজার ছয়শো উনসত্তর ফুট, সেই পাহাড়ের বরফ গলা জলে পরিপুষ্ট হয়ে ঘন ধারায় নেমে এসে বয়ে চলেছে।
দুপুরের ভেতর
দিরাং পৌঁছে খাওয়াদাওয়া সেরে পায়ে পায়ে স্থানীয় বাজার ঘুরে আসতে পারেন। এখানকার মানুষজন
খুব ভালো, আলাপী এবং অতিথিবৎসল।পাহাড়ী উঁচু নীচু পথে সামান্য বেড়িয়ে নিতে ভালোই লাগবে।
বিকেল বিকেল হোটেলে ফিরে আসুন।
পরবর্তী অংশের জন্য অরুণাচল প্রদেশ ভ্রমণ, পর্ব - ২ দেখুন।


















0 মন্তব্যসমূহ
Please do not enter any spam link in the comment box.