করোনা ভাইরাস এবং ভারতের বেচারা জনগন।

আজ ঠিক একশো একত্রিশতম দিন। সরকারি ভাবে করোনা সময়কাল এখন শৈশব অতিক্রম করে এতোদিনে যৌবনে পদার্পণ করেছেন। আমরা ঢাক, ঢোল, বাঁশী, কাঁসর, ঘণ্টা, বাজি পটকা এবং হাততালি সহযোগে শ্রীমতী করোনা দেবীর আবাহন করেছি এবং তার কিছুদিন পর আরো একবার সারা দেশ জুড়ে প্রদীপ এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে অতি বিগলিত এবং গদগদ চিত্তে তাঁর আরতিও করেছি, হাজার হোক ভারতবাসী যে সকলকে পরম আতিথেয়তায় সাদরে বরণ করে নিতে জানে সেটা বেশ ভালো মতন বুঝিয়ে দেবার ফলেই হয়তো দূরসম্পর্কের কুচুটে পিসিমার মতো বেশ ভালোমতন আমাদের সমাজ আর সংসারের সর্বস্তরে ঢুকে পড়েছেন তিনি এবং যাবার নামটিও করছেন না আর।
এই তো মাত্র কিছুদিন আগেই কলকাতার ময়দানে কে বা কারা বেশ ঘটা করেই করোনা দেবীর পূজো এবং যাগ যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন।শুধু কলকাতায় কেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে করোনা মাতার তুষ্টির জন্য কতরকম আয়োজন চলেছে তার ঠিক নেই। কিন্তু তবু মাতাজির এ দেশ ছেড়ে যাবার কোনো লক্ষন নেই। উল্টে অবস্থা এখন এমন যে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।
এই মুহূর্তে যখন আমি এই প্রতিবেদনটি লিখছি, ঠিক তখন ভারতে একদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়ে হয়েছে প্রায় ৫৪৭৩৬। এই সংখ্যার নিরিখে সারা পৃথিবীতে একদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যায় ভারত এখন অন্যতম শীর্ষ দেশ।সরকারি হিসেব বলছে গতকাল দেশে করোনা রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৫৩ জন দুর্ভাগার। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সঙ্খ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট সতেরো লক্ষ সাতান্ন হাজার তিনশো তিরানব্বুই জন। ভারতে করোনা রোগের ফলে এখন পর্যন্ত মৃত্যু ঘটেছে প্রায় ৩৭৪৫২ মানুষের। কেবল মহারাষ্ট্র রাজ্যেই এই সংখ্যাটি অস্বাভাবিক বেশী, মোট পনেরো হাজার তিনশ ষোল জনের।
আমাদের নেতা মন্ত্রী এবং দেশের অভিভাবকেরা সাথে সাথে আত্মসন্তুষ্টি লাভের উপায়ও বের করে নিয়েছেন, বলছেন, একশো তিরিশ কোটি জনসংখ্যার দেশে এটা নেহাতই অতি কম, যেন আরো বেশি বেশি মানুষ মারা গেলে বলবার মতো কিছু একটা হতো তাদের। কেমন নির্দ্বিধায় আমাদের দেশের গুরুজনেরা এখন মন্দির বানাবেন, ভগবানের নামে কোটি কোটি টাকার মচ্ছব করবেন, অথচ দেশের এই বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে লক্ষ লক্ষ জনগনের রুজি রোজগারের বন্দোবস্তটাই এই মুহূর্তে ভয়ানক এক প্রশ্ন চিহ্নের মধ্যে দাঁড়িয়ে গিয়েছে, তা’ নিয়ে সদর্থক কোনো পরিকল্পনাই এখনো পর্যন্ত চোখে পড়লো না।
কেবলমাত্র ট্যুরিসম এবং হস্পিটালিটি সেক্টরেই প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বর্তমানে, এবং যত দিন যাবে এই সংখ্যাটি ধীরে ধীরে আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আমাদের রাষ্ট্রের অভিভাবকেরা ভেবেই নিয়েছেন যেন এই সমস্ত রোজগারহীন ভারতীয় নাগরিকদের এবং তাদের বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে অন্ন জোগাবেন মন্দিরে মসজিদে গির্জায় অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা ঈশ্বর। আসলে পরিকল্পনাহীন আমাদের রাষ্ট্র নেতারা জানেনই না যে কি ভাবে এই ভয়ানক অবস্থার হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।
দিনের পরদিন লকডাউন, মানুষ কাজে যেতে পারছেন না, রেল এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় বন্ধই বলা যেতে পারে। এমনকি করোনা রোগে আক্রান্ত হলে হসপিটালে বেড মিলবে কিনা বা রোগ হলে সাধারন চিকিৎসাটাও এই মুহূর্তে মিলবে কিনা তাই ভেবেই অসংখ্য মানুষ মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কেবল মাত্র ডায়ালিসিস না করাতে পেরে অসহায় ভাবে কতো লোকের যে মৃত্যু ঘটল এই কয় মাসে তার হিসেব নিলেও চমকে উঠবেন। অথচ রাজনীতির ব্যবসায়ীরা এই জিনিষগুলি নিয়েও ঘোলা জলে কুমীর শিকারের আশায় নেমে পড়েছেন। একে অন্যকে দোষারোপ, ব্যক্তিগত আক্রমন সহ কত কি যে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাচ্ছে নিত্যদিন তা’ আর নাই বা বললাম। ঠিক যে সময়টায় দলমত নির্বিশেষে সকলে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়া দরকার ছিলো সেই সময়েও দলাদলি এবং রাজনীতি করে দেশের জনসাধারণকে আরো গভীর হতাশার পাঁকে ডুবিয়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারা।

আজকের লেখায় আমি কোন আশার কথা শোনাতে পারিনি, ক্ষমা করবেন আমায়। কি করে শোনাবো বলুন তো? দিনের পর দিন খবরের কাগজ, টিভি, এফ এম প্রভৃতি সমস্ত গণমাধ্যমগুলিতে নিরন্তর কেবল করোনা, তার ভয়াবহতা, মানুষের মৃত্যু মিছিলের পরিসংখ্যান দেখতে দেখতে বিহ্বল হয়ে রয়েছি। মানুষের হাতে কাজ নেই, খাবার নেই, আর যারা দেশ চালাবার দায়িত্বে আছেন এবং যারা নেই, সেই সমস্ত পক্ষ এবং বিপক্ষের সকল কুশী লবেরা দিব্যি খেয়ে পরে একে অন্যের সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করে ভালোই আছেন, তাদের জন্য ভারতের জনগনের করের টাকায় হাসপাতাল রয়েছে, খাদ্য রয়েছে, বাসস্থান রয়েছে, তাই তারা নিরন্তর ভালো খেয়ে ভালো পরে আপনাকে ভালো ভালো আশার বানী আর প্রতিশ্রুতি শোনাতেই পারেন, কিন্তু দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া আমরা যারা সাধারন মানুষ, ঘরে যার রোজগার করা অর্থের বিনিময়ে খাদ্য এলে পরিজনদের মুখে খাবার জুটবে, তার কি হবে? ভয়ানক অন্ধকারময় এক ঘন রাত্রির মুখোমুখি আমরা এখন। কেবল অপেক্ষায় আছি সামান্য একটু আলোকশিখার। জড়তার অন্ধকার, অজ্ঞানের অন্ধকার, অপমানের অন্ধকার থেকে আমাদের মুক্ত করে যে আলোক শিখা আমাদের নিয়ে যাবে পরিপূর্ণ এক সত্যের পথে, মহান ভারতবর্ষের নিজস্ব রাস্তায়।

আজ ঠিক একশো একত্রিশতম দিন। সরকারি ভাবে করোনা সময়কাল এখন শৈশব অতিক্রম করে এতোদিনে যৌবনে পদার্পণ করেছেন। আমরা ঢাক, ঢোল, বাঁশী, কাঁসর, ঘণ্টা, বাজি পটকা এবং হাততালি সহযোগে শ্রীমতী করোনা দেবীর আবাহন করেছি এবং তার কিছুদিন পর আরো একবার সারা দেশ জুড়ে প্রদীপ এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে অতি বিগলিত এবং গদগদ চিত্তে তাঁর আরতিও করেছি, হাজার হোক ভারতবাসী যে সকলকে পরম আতিথেয়তায় সাদরে বরণ করে নিতে জানে সেটা বেশ ভালো মতন বুঝিয়ে দেবার ফলেই হয়তো দূরসম্পর্কের কুচুটে পিসিমার মতো বেশ ভালোমতন আমাদের সমাজ আর সংসারের সর্বস্তরে ঢুকে পড়েছেন তিনি এবং যাবার নামটিও করছেন না আর।
এই তো মাত্র কিছুদিন আগেই কলকাতার ময়দানে কে বা কারা বেশ ঘটা করেই করোনা দেবীর পূজো এবং যাগ যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন।শুধু কলকাতায় কেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে করোনা মাতার তুষ্টির জন্য কতরকম আয়োজন চলেছে তার ঠিক নেই। কিন্তু তবু মাতাজির এ দেশ ছেড়ে যাবার কোনো লক্ষন নেই। উল্টে অবস্থা এখন এমন যে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।
এই মুহূর্তে যখন আমি এই প্রতিবেদনটি লিখছি, ঠিক তখন ভারতে একদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়ে হয়েছে প্রায় ৫৪৭৩৬। এই সংখ্যার নিরিখে সারা পৃথিবীতে একদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যায় ভারত এখন অন্যতম শীর্ষ দেশ।সরকারি হিসেব বলছে গতকাল দেশে করোনা রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৫৩ জন দুর্ভাগার। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সঙ্খ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট সতেরো লক্ষ সাতান্ন হাজার তিনশো তিরানব্বুই জন। ভারতে করোনা রোগের ফলে এখন পর্যন্ত মৃত্যু ঘটেছে প্রায় ৩৭৪৫২ মানুষের। কেবল মহারাষ্ট্র রাজ্যেই এই সংখ্যাটি অস্বাভাবিক বেশী, মোট পনেরো হাজার তিনশ ষোল জনের।
আমাদের নেতা মন্ত্রী এবং দেশের অভিভাবকেরা সাথে সাথে আত্মসন্তুষ্টি লাভের উপায়ও বের করে নিয়েছেন, বলছেন, একশো তিরিশ কোটি জনসংখ্যার দেশে এটা নেহাতই অতি কম, যেন আরো বেশি বেশি মানুষ মারা গেলে বলবার মতো কিছু একটা হতো তাদের। কেমন নির্দ্বিধায় আমাদের দেশের গুরুজনেরা এখন মন্দির বানাবেন, ভগবানের নামে কোটি কোটি টাকার মচ্ছব করবেন, অথচ দেশের এই বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে লক্ষ লক্ষ জনগনের রুজি রোজগারের বন্দোবস্তটাই এই মুহূর্তে ভয়ানক এক প্রশ্ন চিহ্নের মধ্যে দাঁড়িয়ে গিয়েছে, তা’ নিয়ে সদর্থক কোনো পরিকল্পনাই এখনো পর্যন্ত চোখে পড়লো না।
কেবলমাত্র ট্যুরিসম এবং হস্পিটালিটি সেক্টরেই প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বর্তমানে, এবং যত দিন যাবে এই সংখ্যাটি ধীরে ধীরে আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আমাদের রাষ্ট্রের অভিভাবকেরা ভেবেই নিয়েছেন যেন এই সমস্ত রোজগারহীন ভারতীয় নাগরিকদের এবং তাদের বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে অন্ন জোগাবেন মন্দিরে মসজিদে গির্জায় অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা ঈশ্বর। আসলে পরিকল্পনাহীন আমাদের রাষ্ট্র নেতারা জানেনই না যে কি ভাবে এই ভয়ানক অবস্থার হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।
দিনের পরদিন লকডাউন, মানুষ কাজে যেতে পারছেন না, রেল এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় বন্ধই বলা যেতে পারে। এমনকি করোনা রোগে আক্রান্ত হলে হসপিটালে বেড মিলবে কিনা বা রোগ হলে সাধারন চিকিৎসাটাও এই মুহূর্তে মিলবে কিনা তাই ভেবেই অসংখ্য মানুষ মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কেবল মাত্র ডায়ালিসিস না করাতে পেরে অসহায় ভাবে কতো লোকের যে মৃত্যু ঘটল এই কয় মাসে তার হিসেব নিলেও চমকে উঠবেন। অথচ রাজনীতির ব্যবসায়ীরা এই জিনিষগুলি নিয়েও ঘোলা জলে কুমীর শিকারের আশায় নেমে পড়েছেন। একে অন্যকে দোষারোপ, ব্যক্তিগত আক্রমন সহ কত কি যে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাচ্ছে নিত্যদিন তা’ আর নাই বা বললাম। ঠিক যে সময়টায় দলমত নির্বিশেষে সকলে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়া দরকার ছিলো সেই সময়েও দলাদলি এবং রাজনীতি করে দেশের জনসাধারণকে আরো গভীর হতাশার পাঁকে ডুবিয়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারা।
এর সঙ্গে আর এক
মুস্কিল হয়েছে নেতাদের নিয়ে এই যে আজ যা বলছেন আগামীকাল তা’ বদলে ফেলছেন। সিদ্ধান্ত
বদলেই যদি ফেলতে হয় তাহলে হুটহাট করে এতো ঘোষনা করারই বা কি আছে বাপু! নেতাদের না হয়
প্রতিশ্রুতি দেওয়াটাই কাজ, কিন্তু তা’বলে শুধু শুধু এই দুর্দিনের বাজারে মানুষের এতো
হয়রানির মধ্যে আরো নতুন নতুন ভাবে হয়রান করবার মানে কি? যেমন এই মাসের ১২-১৩ তারিখ
থেকেই শোনা যাচ্ছিল যে গত বছর আগষ্টের পর থেকে
জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের পর্যটন ব্যবসার হাল যেহেতু প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে, এবং
যে রাজ্যটির সিংহ ভাগ মানুষের রুজি রোজগার কেবলমাত্র পর্যটনকেই ঘিরে রয়েছে এবং এই করোনা
আতঙ্কের ফলে যা বর্তমানে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই কারনে সেখানকার বর্তমান প্রশাসনিক
কর্তা ব্যক্তিরা একজোট হয়ে কতকগুলি সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত গ্রহন করার মাধ্যমে জম্মু
ও কাশ্মীরকে আবার ভ্রমন পিপাসু ভারতীয়দের কাছে খুলে দিতে সম্মত হয়েছেন। সেই অনুযায়ী
গত ১৫ই জুলাইয়ের ইকনমিস টাইমস পত্রিকা জানিয়েও দিলো যে বিদেশী ট্যুরিস্ট দের এখনো আসার
অনুমতি না দিলেও কাশ্মীরে ভারতীয় পর্যটকেরা ১৪ই জুলাই থেকেই পা রাখতে পারবেন। কেবল
কতগুলি যুক্তি সঙ্গত নিয়ম কানুন পর্যটকদের অতি অবশ্যই পালন করতে হবে। সবটুকু জেনে সত্যি
খুব আনন্দ হয়েছিল, কিন্তু সেইদিনই সন্ধ্যায় শোনা গেলো যে আপাতত আবারো বন্ধ হলো শ্রীনগরের
পর্যটন। ঠিক একই অবস্থা গোয়ার ক্ষেত্রেও। এই
মাসের মাঝামাঝি থেকে গোয়া খুলে দেওয়া হবে বলে যা সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছিল, আপাতত
সরকার সেই সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। করতেই পারেন। কিন্তু বারবার এমন আশাহত না করে সরকার বাহাদুর যদি একটু ভাবনা চিন্তা করে সংবাদ মাধ্যমের
কাছে কথা বলেন তাহলে বোধ হয় ভালো হয়।
শ্রীনগরের শালিমার গার্ডেনের কাছে ইরফানাদের পারিবারিক হোটেল। দীর্ঘদিন ধরে জম্মু কাশ্মীরে অশান্তি, গোলাগুলি, পাথরবৃষ্টি, কারফিঊ, বন্ধ, সেনা বাহিনীর টহল প্রভৃতির কারণে সমস্ত কাশ্মীরে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোটেল ও পর্যটন ব্যবসা। পর্যটক সংখ্যা কমতে কমতে অতি খারাপ জায়গায় পৌছে গিয়েছে। একে হোটেল থেকে রোজগার নেই, তার ওপর বাচ্চাদের নিয়ে নিয়ত ভয়। দিনের পর দিন স্কুল বন্ধ। স্বামী, দুই কিশোর পুত্র ও এক কন্যার জননী এই শিক্ষিতা মেয়েটি বছর কয়েক আগে দুঃখ করে জানিয়েছিল, “ছেলে মেয়েগুলো এই পরিবেশে আর মানুষ হবে না গো দাদা, বড়ো ভয় করে আমার”। সারা বিশ্বের মায়েদের চিরকালীন আর্তি তার সন্তানের জন্য যেন ধরা পড়েছিল ইরফানার গলায়। কিছুদিন আগে শুনলাম শ্রীনগর ছেড়ে সপরিবারে ওরা এখন দিল্লীর বাসিন্দা। নতুন পরিবেশে জোর করে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছে, যদি সন্তানেরা মানুষ হয়। দিল্লীতেও ট্রাভেল ব্যবসাই ছিল এই পরিবারটির একমাত্র রোজগারের উপায়। এই করোনা এখন সেটাও কেড়ে নিলো।

আমার এই কলকাতাতেই ছোট একটি ট্রাভেল কোম্পানী চালায় তিমির। বাবা মা থাকেন পশ্চিমবঙ্গের সুদুর দক্ষিন প্রান্তের বাঁকুড়া জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। কয়েক বছর আগে সেই গ্রাম থেকে ভাগ্য ফেরাতে সামান্য কিছু পুঁজি সম্বল করে কোলকাতায় এসেছিল তিমির, টুকটাক ব্যবসাও হচ্ছিল বেশ, সবে যখন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে শুরু করেছে তার ব্যবসা আচমকাই এই ভয়ানক করোনা ঝড়ে এখন টালমাটাল তার সংসার। তার ভেতর করোনা শুরু হবার সময় লক ডাউনের ভেতর প্রায় তিনমাস সুদুর চন্ডীগড়ে আটকে পড়েছিল সে, কলকাতায় শিশু কন্যা সমেত তার স্ত্রী নিদারুন পরিস্থিতির শিকার হয়ে একা একা বাড়ীওলা, মুদির দোকান প্রভৃতি লোকজনের গঞ্জনা সহ্য করেও পড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিল।
আরো শুনবেন? চন্ডীগড় থেকে কলকাতা ফেরবার জন্য তিনবার বাধ্য হয়ে এরোপ্লেনের টিকিট কেটেও ফিরতে পারেনি তিমির, কারন আমাদের ভারত সরকার প্রতিবার আগে থেকে না জানিয়ে আচমকাই লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিলেন, অথচ বিমান সংস্থা গুলি বাতিল হওয়া কোনো টিকিটের মুল্য তো ফেরত দিলেন ই না, উলটে বলছেন, একবছরের ভেতর চন্ডীগড় থেকে উনি আবার ফেরার টিকিট কাটলে তখন এই ভাড়া পুষিয়ে দেওয়া হবে। কি আশ্চর্য কথা!
আরো একটা মজার কথা শুনুন, আটকে পড়া যাত্রীদের ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ফিরিয়ে আনবার জন্য ভারতীয় রেল স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করলেন, এবং টিকিট কেটে সেই ট্রেনে চড়তে হবে জানালেন, তাও সে কেমন টিকিট? রাজধানী এক্সপ্রেস, শতাব্দী এক্সপ্রেস প্রভৃতি ট্রেন গুলিতে যে ডায়নামিক ফেয়ার সিস্টেম চালু রয়েছে সেই রকম ভাড়া পদ্ধতি, অর্থাৎ চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে ভাড়ার পরিমান বৃদ্ধি পেতে থাকবে?
এটা কি সত্যিই আমার দেশ? এই দেশ তো এখন ব্যবসাদার, মুনাফাবাজ দের রাজত্ব। দেশের সাধারন মানুষগুলোর কথা ভাবার বিন্দুমাত্র হয়তো সময় নেই এই ব্যবসাদার রাষ্ট্র
নেতাদের। এক দুর্বিষহ অন্ধকার এখন চারিদিকে।এই দেশ এখন কেবলমাত্র মুষ্টিমেয় পয়সাওলা লোকেদের জন্য যেন। তিমির
কোনো রকমে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে সাড়ে তিনমাস পর নিজের বাড়িতে ফিরতে পেরেছে।গতকাল
খবর পেলাম কলকাতার যাদবপুরে এক তিন মাথার মোড়ে
এখন বাধ্য হয়ে চপ ভেজে সংসার চালাবার চেষ্টা করছে ছেলেটা। ভারতীয় পর্যটনের সমস্ত আশা চরম রাষ্ট্রীয়
ঔদাসিন্য এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলে এই ভাবেই অবশেষে চুল্লীতে গিয়ে শেষ হবে হয়তো।
শ্রীনগরের শালিমার গার্ডেনের কাছে ইরফানাদের পারিবারিক হোটেল। দীর্ঘদিন ধরে জম্মু কাশ্মীরে অশান্তি, গোলাগুলি, পাথরবৃষ্টি, কারফিঊ, বন্ধ, সেনা বাহিনীর টহল প্রভৃতির কারণে সমস্ত কাশ্মীরে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোটেল ও পর্যটন ব্যবসা। পর্যটক সংখ্যা কমতে কমতে অতি খারাপ জায়গায় পৌছে গিয়েছে। একে হোটেল থেকে রোজগার নেই, তার ওপর বাচ্চাদের নিয়ে নিয়ত ভয়। দিনের পর দিন স্কুল বন্ধ। স্বামী, দুই কিশোর পুত্র ও এক কন্যার জননী এই শিক্ষিতা মেয়েটি বছর কয়েক আগে দুঃখ করে জানিয়েছিল, “ছেলে মেয়েগুলো এই পরিবেশে আর মানুষ হবে না গো দাদা, বড়ো ভয় করে আমার”। সারা বিশ্বের মায়েদের চিরকালীন আর্তি তার সন্তানের জন্য যেন ধরা পড়েছিল ইরফানার গলায়। কিছুদিন আগে শুনলাম শ্রীনগর ছেড়ে সপরিবারে ওরা এখন দিল্লীর বাসিন্দা। নতুন পরিবেশে জোর করে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছে, যদি সন্তানেরা মানুষ হয়। দিল্লীতেও ট্রাভেল ব্যবসাই ছিল এই পরিবারটির একমাত্র রোজগারের উপায়। এই করোনা এখন সেটাও কেড়ে নিলো।

আমার এই কলকাতাতেই ছোট একটি ট্রাভেল কোম্পানী চালায় তিমির। বাবা মা থাকেন পশ্চিমবঙ্গের সুদুর দক্ষিন প্রান্তের বাঁকুড়া জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। কয়েক বছর আগে সেই গ্রাম থেকে ভাগ্য ফেরাতে সামান্য কিছু পুঁজি সম্বল করে কোলকাতায় এসেছিল তিমির, টুকটাক ব্যবসাও হচ্ছিল বেশ, সবে যখন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে শুরু করেছে তার ব্যবসা আচমকাই এই ভয়ানক করোনা ঝড়ে এখন টালমাটাল তার সংসার। তার ভেতর করোনা শুরু হবার সময় লক ডাউনের ভেতর প্রায় তিনমাস সুদুর চন্ডীগড়ে আটকে পড়েছিল সে, কলকাতায় শিশু কন্যা সমেত তার স্ত্রী নিদারুন পরিস্থিতির শিকার হয়ে একা একা বাড়ীওলা, মুদির দোকান প্রভৃতি লোকজনের গঞ্জনা সহ্য করেও পড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিল।
আরো শুনবেন? চন্ডীগড় থেকে কলকাতা ফেরবার জন্য তিনবার বাধ্য হয়ে এরোপ্লেনের টিকিট কেটেও ফিরতে পারেনি তিমির, কারন আমাদের ভারত সরকার প্রতিবার আগে থেকে না জানিয়ে আচমকাই লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিলেন, অথচ বিমান সংস্থা গুলি বাতিল হওয়া কোনো টিকিটের মুল্য তো ফেরত দিলেন ই না, উলটে বলছেন, একবছরের ভেতর চন্ডীগড় থেকে উনি আবার ফেরার টিকিট কাটলে তখন এই ভাড়া পুষিয়ে দেওয়া হবে। কি আশ্চর্য কথা!
আরো একটা মজার কথা শুনুন, আটকে পড়া যাত্রীদের ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ফিরিয়ে আনবার জন্য ভারতীয় রেল স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করলেন, এবং টিকিট কেটে সেই ট্রেনে চড়তে হবে জানালেন, তাও সে কেমন টিকিট? রাজধানী এক্সপ্রেস, শতাব্দী এক্সপ্রেস প্রভৃতি ট্রেন গুলিতে যে ডায়নামিক ফেয়ার সিস্টেম চালু রয়েছে সেই রকম ভাড়া পদ্ধতি, অর্থাৎ চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে ভাড়ার পরিমান বৃদ্ধি পেতে থাকবে?
এটা কি সত্যিই আমার দেশ? এই দেশ তো এখন ব্যবসাদার, মুনাফাবাজ

আজকের লেখায় আমি কোন আশার কথা শোনাতে পারিনি, ক্ষমা করবেন আমায়। কি করে শোনাবো বলুন তো? দিনের পর দিন খবরের কাগজ, টিভি, এফ এম প্রভৃতি সমস্ত গণমাধ্যমগুলিতে নিরন্তর কেবল করোনা, তার ভয়াবহতা, মানুষের মৃত্যু মিছিলের পরিসংখ্যান দেখতে দেখতে বিহ্বল হয়ে রয়েছি। মানুষের হাতে কাজ নেই, খাবার নেই, আর যারা দেশ চালাবার দায়িত্বে আছেন এবং যারা নেই, সেই সমস্ত পক্ষ এবং বিপক্ষের সকল কুশী লবেরা দিব্যি খেয়ে পরে একে অন্যের সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করে ভালোই আছেন, তাদের জন্য ভারতের জনগনের করের টাকায় হাসপাতাল রয়েছে, খাদ্য রয়েছে, বাসস্থান রয়েছে, তাই তারা নিরন্তর ভালো খেয়ে ভালো পরে আপনাকে ভালো ভালো আশার বানী আর প্রতিশ্রুতি শোনাতেই পারেন, কিন্তু দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া আমরা যারা সাধারন মানুষ, ঘরে যার রোজগার করা অর্থের বিনিময়ে খাদ্য এলে পরিজনদের মুখে খাবার জুটবে, তার কি হবে? ভয়ানক অন্ধকারময় এক ঘন রাত্রির মুখোমুখি আমরা এখন। কেবল অপেক্ষায় আছি সামান্য একটু আলোকশিখার। জড়তার অন্ধকার, অজ্ঞানের অন্ধকার, অপমানের অন্ধকার থেকে আমাদের মুক্ত করে যে আলোক শিখা আমাদের নিয়ে যাবে পরিপূর্ণ এক সত্যের পথে, মহান ভারতবর্ষের নিজস্ব রাস্তায়।
0 মন্তব্যসমূহ
Please do not enter any spam link in the comment box.