রাজস্থান, (পর্ব - ১)
ভারতীয় গণরাজ্যের উত্তর-পশ্চিম কোল ঘেঁষে এক অতি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক রাজ্যের অবস্থান। যে রাজ্যকে আমরা রাজস্থান নামে জানি। প্রায় তিন লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এই সুবৃহৎ রাজ্যটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বিখ্যাত থর মরুভূমি যাকে ‘দি গ্রেট ইন্ডিয়ান ডেজার্ট’ নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। এই রাজ্যের পশ্চিম এবং উত্তরপশ্চিম প্রান্তে পাকিস্তান, উত্তরে ভারতের পঞ্জাব রাজ্য, উত্তর পূর্বে হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্য, দক্ষিন পূর্বে মধ্যপ্রদেশ এবং দক্ষিন পশ্চিমে গুজরাট রাজ্য। ভারতের সুমহান বৈদিক সভ্যতা এবং সিন্ধু সভ্যতার কাল থেকেই বহু প্রাচীন এই রাজ্যটির অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। উদয়পুরের কাছে বালথালে প্রাচীন হরপ্পা সভ্যতার অনেক নিদর্শন আবিস্কৃত হয়েছে। মহাভারতে উল্লিখিত প্রাচীন মৎস্য রাজ্যের অবস্থান হিসেবে বর্তমানের রাজধানী শহর জয়পুর থেকে আলোয়ার ও ভরতপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশটিকে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। প্রাচীন কাল থেকেই এই দেশ শৌর্য বীর্য ও বীর গাথার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। কত নাটক, কত উপন্যাস যে রচিত হয়েছে এই রাজ্যটিকে নিয়ে তার ইয়ত্তা নেই। মেবার, চিতোর,মাড়োয়ার, বুঁদি, প্রভৃতি অসংখ্য হার না মানা বীরভূমির কাহিনী যেমন শোনা যায়, ঠিক তেমনই শোনা যায় দেশের জন্য, জাতির জন্য, নারীর সম্ভ্রম রক্ষার জন্য প্রান দান করার গল্প, শোনা যায় রানী পদ্মিনী, আর মীরা বাঈয়ের গল্প, রানা কুম্ভের, রানা প্রতাপের গল্প আর তার সাথে সাথে বহুল প্রচারিত রাণা প্রতাপের একান্ত ভালোবাসার ঘোড়া চেতকের গল্প। আজো রাজপুতানার আকাশ বাতাস এদের মহান আত্মত্যাগের কাহিনী বুকে বহন করে ভারী হয়ে আছে। তাই রাজস্থান সমস্ত ভারত বাসীর কাছে কেবল নিছক একটি রাজ্য নয়, এক সুবিশাল অহঙ্কারের আরেক নাম।
উত্তর পশ্চিম প্রান্তের এই রাজ্যটিতে শীত ও গরম দুটোই খুব বেশী। তবুও রাজস্থান বেড়াবার জন্য শীত কালটিই সবচেয়ে ভালো।অনেক রকম ভাবে রাজস্থান বেড়াতে যেতে পারেন। হাতে যদি সময় থাকে তাহলে একসাথে দিন পনেরোর ছুটি নিয়ে মোটামুটি ভাবে রাজস্থানের মূল আকর্ষণীয় অংশ গুলি বেড়িয়ে নিতে পারেন। এছাড়াও অনেকে দিল্লী আগ্রার সঙ্গে জয়পুর, আলোয়ার, সারিস্কা, ভরতপুর বেড়িয়ে নেন। কেউ কেউ প্রতি বছর ছয় সাত দিনের ছুটি নিয়ে ভাগে ভাগে একটু একটু করেও রাজস্থান বেড়িয়ে নিতে পারেন, আবার আমেদাবাদের সঙ্গে মাউন্ট আবু ও উদয়পুরও বেড়িয়ে নেওয়া যায় চাইলে। ঠিক মতো ভ্রমন সূচী তৈরি করে সেইমতো ব্যবস্থা নিয়ে আপনার বাজেট ও সময় অনুযায়ী রাজস্থান বেড়িয়ে নিতে পারেন। এই রাজ্যটিতে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বেড়াবার জায়গাগুলির দুরত্ব বেশ বেশী। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থেকে সেই অনুযায়ী সূচী তৈরি করাই ভালো। আমি আজ এই লেখাতে মোটামুটি ভাবে একসাথে দিন বারো মতন সময় নিয়ে কিভাবে রাজস্থানের মূল আকর্ষণীয় জায়গাগুলি দেখবেন তাই নিয়েই আলোচনা করবো।
রাজস্থান ভ্রমন সূচী।
প্রথমেই বেছে নিন যাত্রা শুরু ও শেষ করবার জন্য দুটি শহরকে। আপনি হয় রাজধানী শহর জয়পুর দিয়ে শুরু করে যোধপুরে এসে শেষ করতে পারেন নতুবা যোধপুর দিয়ে সুরু করে জয়পুরে এসে শেষ করুন। দুটি শহরই দেশের অন্যান্য বড় শহর গুলির সাথে রেল, সড়ক ও বিমান পথে সরাসরি সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়াও উদয়পুর এবং ইদানীং কালে মরু শহর জয়শলমীঢ় বায়ুপথে সংযুক্ত হয়েছে, তবে বেড়ানোর সুবিধের জন্য এই দুটি শহরকেই যাত্রা শুরু বা শেষ করবার জন্য বেছে নেওয়াটাই ভালো। আমাদের সুবিধার জন্য আমি এখানে যোধপুর দিয়ে শুরু করবো আর জয়পুরে এসে শেষ করবো।

ট্রেন বা প্লেন, যেভাবেই আসুন না কেন চেষ্টা করবেন সকাল সকাল যোধপুরে এসে পৌঁছতে। চটপট হোটেলে পৌঁছে জলখাবার খেয়ে তৈরি হয়ে নিন। এরপর প্রথমেই চলুন উমেদ ভবন প্যালেস দেখতে। চড়াই উৎরাইয়ের রাস্তায় সামান্য উচ্চতায় অবস্থিত এই প্রাসাদ সত্যিই সুন্দর, যদিও এর অনেক খানি অংশ নিয়ে এখন একটি পাঁচ তারা হোটেল হয়েছে। এর ভেতরেই একটি ভিনটেজ গাড়ীর সংগ্রহ শালা রয়েছে, সেটিকেও দেখে নিতে ভুলবেন না। উমেদ ভবন দেখে নিয়ে এর পরে চলুন যশোবন্ত থাডা দেখতে। অপূর্ব এর নির্মাণ শৈলী। দেখবার মতো এই সুবৃহৎ থাডা দেখার পরে এবার চলুন যোধপুরের মূল আকর্ষণ মেহেরানগড় দুর্গ দেখতে।

পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত এই দুর্গটির প্রত্যেক বাঁকে বাঁকে অজস্র অপার রহস্য প্রতি পদে পদে উন্মোচিত হবার জন্য অপেক্ষা করে আছে যেন। একেবারে সর্বোচ্চ তল পর্যন্ত একটু একটু করে সব কিছু দেখে নিয়ে এবার চলুন ফিরতি পথে যোধপুরের বিখ্যাত ক্লক টাওয়ার দেখে হোটেলে ফিরবো আমরা।সন্ধ্যাবেলায় চাইলে নিজেরাই পায়ে হেঁটে বা অটো ভাড়া করে টুকিটাকি কেনাকাটায় বেড়িয়ে পড়তে পারেন। আজ আমাদের যোধপুরেই রাত্রিবাস।

দ্বিতীয়দিন তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে জলখাবার খেয়ে মালপত্র সমেত বেড়িয়ে পড়ুন, আজ আমরা যাব মরুশহর জয়শলমীঢ়। প্রায় ৩০০ কিমি এই পথটুকু যেতে সময় লাগবে কম বেশী সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা। শেষ দুপুরে জয়শলমীঢ় পৌঁছে মধ্যাহ্ন ভোজন সেরে নিন। হনুমান ছকের ওপরে সত্যজিত রায়ের স্মৃতি বিজড়িত প্রিন্স হোটেলের ছাদের ওপর মেদিনীপুরের কমল গিরির সম্পূর্ণ বাঙালি হোটেলে বাড়ির যত্নে খাবার খেতেও পারেন। সত্যজিৎ রায় তাঁর বিখ্যাত বাংলা ছায়াছবি সোনার কেল্লার শ্যুটিং উপলক্ষে দীর্ঘদিন এই হোটেলেই সম্পূর্ণ শ্যুটিং ইউনিট নিয়ে থেকেছেন। হোটেলের মালিক আমন জী আজও সত্যজিৎ রায়ের কথা বলবার সময় পরম শ্রদ্ধায় দু হাত মাথায় ঠেকিয়ে প্রনাম জানান। সোনার কেল্লা বা জয়শলমীঢ় ফোর্ট এই হোটেল থেকে খুব সুন্দর ভাবে দেখা যায়। বস্তুত সমগ্র জয়শলমীঢ় শহর থেকেই এই সোনা রঙের দুর্গ অসম্ভব রঙিন হয়ে দৃশ্যমান।এই শহরের বেশীরভাগ মানুষ, তিনি ব্যবসায়ী অথবা সাধারন মানুষ যাই হোননা কেন, একবাক্যে সত্যজিৎ রায়ের কথা বলবেন আপনাকে। এঁরা সকলেই স্বীকার করেন যে সত্যজিৎ রায়ের জন্যই একসময়ের অখ্যাত এই শহর আজ বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে তার জায়গা করে নিতে পেরেছে। সন্ধ্যার সময় নিজেদের উদ্যোগে পায়ে পায়ে সোনার কেল্লার এই শহরে বেড়িয়ে নিতে পারেন। হনুমান ছক থেকে সোজাসুজি তোরণ পেরিয়ে ডান হাতে রাজার বাড়িকে রেখে সোজা বাজারের ভেতর দিয়ে জিনিষ পত্র দরাদরি ও কেনাকাটা করতে করতে এগিয়ে চলুন। উটের চামড়া দ্বারা প্রস্তুত নানারকম ব্যাগ, রকমারি রাজস্থানি রঙ্গিন পোষাক, আর সোনালী রঙের মারকানা পাথর দিয়ে তৈরি অসংখ্য পাথরের জিনিষ পত্রের দোকান পাবেন এখানে। এই গলির ভেতর দিয়ে দুর্গের দিকে যাবার পথেই পড়বে ধনরাজ ভাটিয়ার বিখ্যাত মিষ্টি আর ভুজিয়ার দোকান। এই দোকানের বিখ্যাত মিষ্টি ঘোটোয়া, অবশ্যই এর অসামান্য স্বাদ পরখ করে দেখবেন। বহুদিন এই স্বাদ ভুলতে পারবেন না তা’ আমি হলফ করে বলতে পারি। সন্ধ্যার আলোকমালায় সজ্জিত সোনার কেল্লার অবিস্মরনীয় রুপ বাইরে থেকে দর্শন করে হোটেলে ফিরে আসুন।

আজ তৃতীয় দিন। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে জলখাবার খেয়েই চলুন বেড়িয়ে পড়ি জয়শলমীঢ় দেখতে।প্রথমেই চলুন গাদিসার লেক।এখানে বোটিং করা যায়। লেকের জলে অগুন্তি বড় বড় মাছও ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে। মনোরম পরিবেশ। লেক দেখে এবার চলুন এই শহরের বিখ্যাত হাভেলী দেখতে। পাটোয়ান কি হাভেলী। সূক্ষ্ম জালির কাজ করা অপূর্ব রাজস্থানী শৈলীর কারুকার্যে শোভিত এই প্রাসাদ দেখতে অনেকখানি সময় লাগে। পরের পর তল বিশিষ্ট এই প্রাসাদ নিশ্চয়ই আপনার মন জয় করে নেবে। প্রাসাদ দেখা শেষ করে এবার চলুন জয়শলমীঢ়ের মুখ্য আকর্ষণ সোনার কেল্লা দেখতে। ভারতের অন্যতম বিখ্যাত এই দুর্গটিতে এখনো প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বসবাস করেন। এই দুর্গের অভ্যন্তরেই রয়েছে স্কুল, কলেজ, দোকান বাজার, মন্দির, রেস্তোরাঁ সহ বসবাসের জন্য যা কিছু প্রয়োজন প্রায় তার সব কিছুই। সবার আগে দুর্গের ভেতরে সুপ্রাচীন জৈন মন্দিরটি দর্শন করুন। তারপর ধীরে ধীরে সমগ্র দুর্গটিকে ঘুরে দেখুন। সোনার কেল্লা সিনেমার মুকুলের বাড়ি, প্রভৃতি সবকিছু ভালো করে দেখার পর এবার আমরা ফিরে আসবো হোটেলে। মধ্যাহ্ন ভোজন শেষ করে লাগেজ সহ চলুন বেড়িয়ে পড়ি মরুভূমি দেখতে। আজ আমরা মরুভূমিতেই তাঁবুর ভেতরে রাত কাটাবো।অনেক বড়ো জায়গা জুড়ে এই তাঁবু গুলির অবস্থান। একেকটি ঘেরা জায়গার ভেতর পাশাপাশি অনেক গুলি তাঁবুর অবস্থান এখানে। তাঁবুর ভেতরেই খাট বিছানা, বাথ্রুম সবকিছু রয়েছে।গরম জলের ব্যবস্থাও রয়েছে। ডাইনিং হল এই ঘেরাটোপের ভেতরেই আরেকটি বড়ো জায়গায়।তাঁবুতে মালপত্র রেখে এবার চলুন জিপ সাফারি করতে আর উটের পিঠে চেপে সূর্যাস্ত দেখতে। আদিগন্ত বিস্তৃত কেবল বালির সমুদ্র এখানে। যেন ঢেউয়ের পরে ঢেউ।ছোট বড়ো কেবল বালির পাহাড় যেন। মরুভূমির বুক চিরে চলেছে কেবল উটের সারি, সওয়ারি নিয়ে। কোথাও বা উটের গাড়িতে চড়ে বেড়িয়েছে লোকে। অতি সামান্য দুয়েকটি ছোট ছোট কাঁটা ঝোপ ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়েনা। এই অসাধারন দৃশ্যাবলীর মধ্যে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিগন্ত রাঙা করে অস্তগামী সূর্যের মধুর আলপনা দর্শন করে চক্ষু সার্থক করুন। ধীরে ধীরে মরুভূমির বুকের ওপর ঘন অন্ধকার নেমে আসছে। এবার তাঁবুতে ফেরার পালা। তাঁবু গুলির গোল ঘেরাটপের ভেতর বালির ওপরেই এক জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে বনফায়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীরা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সেখানে অনুষ্ঠান পরিবেশন করছেন। রাজস্থানী লোকনৃত্য, লোকসঙ্গীত, অগ্নি নৃত্য প্রভৃতি অনেক কিছু পরিবেশনের পর রাতের আহার করতে ডাইনিং হলে চলুন।

এখানে একটি কথা বলে রাখি, আপনি চাইলে তাঁবুতে না থেকে তাড়াতাড়ি জিপ সাফারি ও ক্যামেল সাফারি এবং সূর্যাস্ত দেখা শেষ করেই জয়শলমীঢ় শহরে ফিরে এসে হোটেলেও রাত কাটাতে পারেন। তবে মরুভূমিতে একরাত তাঁবুর মধ্যে কাটাতে খারাপ লাগে না। সেক্ষেত্রে তাঁবু এবং সেখানকার ব্যবস্থা বিষয়ে ভালো করে খবরাখবর নিয়ে নেবেন। যদি আপনার হাতে সময় থাকে এবং জয়শলমীঢ়ে আরো এক রাত কাটাতে পারেন, তাহলে পরের দিন অতি ভোর বেলা অন্ধকার থাকতে থাকতেই বেড়িয়ে পড়তে পারেন ১২০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত তানৌট মাতার মন্দির দেখবার উদ্দেশ্যে। পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছে এই গ্রামটিকে ঘিরে অনেক গল্প রয়েছে। আজ পর্যন্ত এই গ্রামটিতে যত সেল বা মর্টার পাকিস্তান থেকে ছোঁড়া হয়েছে তার একটিও ফাটেনি।অনেকদিন আগে এখানে একজন বুড়ি মা একা বাস করতেন। তিনি কারো সাথে বিশেষ কথা বলতেন না, এবং পূজার্চনা করে সময় কাটাতেন। তখন থেকেই কখনো কোনো অঘটন এই গ্রামে ঘটেনি, গ্রামবাসীদের বিশ্বাস এই বুড়ি মা সমস্ত বিপদ থেকে সদাসর্বদা এই গ্রামকে রক্ষা করে চলেছেন।তারপর হঠাৎই একদিন বুড়িমাকে আর এখানে দেখা গেল না। সেই থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা এখানে তানৌট মাতার মন্দির বানিয়ে নিজেরা নিষ্ঠা ভরে পূজা করে চলেছেন। তানৌট থেকে সীমান্ত ঘুরে আসতে চাইলে কেবল ভারতীয়রাই জয়শলমীঢ় মিলিটারি হেড কোয়ার্টারে আবেদন জানাতে পারেন, তবে এ বিষয়ে বিশদ নিয়ম কানুন ও তথ্যাদি বিষয়ে ভালো করে খবর নেবার পরেই এই ব্যাপারে অগ্রসর হওয়া উচিৎ হবে। তানৌট দেখে ফেরার পথে আপনি লঙ্গেওয়াল সৈনিক স্মারক স্থল দর্শন করতে পারেন এবং তারপরেও কুলধারা বা ভুতুড়ে গ্রাম দেখে জয়শলমীঢ় ফিরে আসতে পারেন। দুপুরের খাবার রাস্তার পাশে অনেক সুন্দর সুন্দর ধাবায় বসে সেক্ষেত্রে সেরে নিতে হবে আপনাকে। যদি তিন দিন জয়শলমীঢ়ে কাটাতে চান তাহলে প্রথম রাত এবং দ্বিতীয় রাত জয়শলমীঢ় শহরে হোটেলে কাটিয়ে তৃতীয় রাত মরুভূমিতে তাঁবুতে থাকতে পারেন। তবে সাধারনত সাধারন পর্যটকেরা দু’দিনেই জয়শলমীঢ় এবং মরুভূমি দেখে নেন সময়ের স্বল্পতার জন্য। তাই আমিও এটিকে অপশনালই রেখে দিলাম।
*প্রথম পর্ব সমাপ্ত। দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন।
ভারতীয় গণরাজ্যের উত্তর-পশ্চিম কোল ঘেঁষে এক অতি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক রাজ্যের অবস্থান। যে রাজ্যকে আমরা রাজস্থান নামে জানি। প্রায় তিন লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এই সুবৃহৎ রাজ্যটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বিখ্যাত থর মরুভূমি যাকে ‘দি গ্রেট ইন্ডিয়ান ডেজার্ট’ নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। এই রাজ্যের পশ্চিম এবং উত্তরপশ্চিম প্রান্তে পাকিস্তান, উত্তরে ভারতের পঞ্জাব রাজ্য, উত্তর পূর্বে হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্য, দক্ষিন পূর্বে মধ্যপ্রদেশ এবং দক্ষিন পশ্চিমে গুজরাট রাজ্য। ভারতের সুমহান বৈদিক সভ্যতা এবং সিন্ধু সভ্যতার কাল থেকেই বহু প্রাচীন এই রাজ্যটির অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। উদয়পুরের কাছে বালথালে প্রাচীন হরপ্পা সভ্যতার অনেক নিদর্শন আবিস্কৃত হয়েছে। মহাভারতে উল্লিখিত প্রাচীন মৎস্য রাজ্যের অবস্থান হিসেবে বর্তমানের রাজধানী শহর জয়পুর থেকে আলোয়ার ও ভরতপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশটিকে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। প্রাচীন কাল থেকেই এই দেশ শৌর্য বীর্য ও বীর গাথার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। কত নাটক, কত উপন্যাস যে রচিত হয়েছে এই রাজ্যটিকে নিয়ে তার ইয়ত্তা নেই। মেবার, চিতোর,মাড়োয়ার, বুঁদি, প্রভৃতি অসংখ্য হার না মানা বীরভূমির কাহিনী যেমন শোনা যায়, ঠিক তেমনই শোনা যায় দেশের জন্য, জাতির জন্য, নারীর সম্ভ্রম রক্ষার জন্য প্রান দান করার গল্প, শোনা যায় রানী পদ্মিনী, আর মীরা বাঈয়ের গল্প, রানা কুম্ভের, রানা প্রতাপের গল্প আর তার সাথে সাথে বহুল প্রচারিত রাণা প্রতাপের একান্ত ভালোবাসার ঘোড়া চেতকের গল্প। আজো রাজপুতানার আকাশ বাতাস এদের মহান আত্মত্যাগের কাহিনী বুকে বহন করে ভারী হয়ে আছে। তাই রাজস্থান সমস্ত ভারত বাসীর কাছে কেবল নিছক একটি রাজ্য নয়, এক সুবিশাল অহঙ্কারের আরেক নাম।
উত্তর পশ্চিম প্রান্তের এই রাজ্যটিতে শীত ও গরম দুটোই খুব বেশী। তবুও রাজস্থান বেড়াবার জন্য শীত কালটিই সবচেয়ে ভালো।অনেক রকম ভাবে রাজস্থান বেড়াতে যেতে পারেন। হাতে যদি সময় থাকে তাহলে একসাথে দিন পনেরোর ছুটি নিয়ে মোটামুটি ভাবে রাজস্থানের মূল আকর্ষণীয় অংশ গুলি বেড়িয়ে নিতে পারেন। এছাড়াও অনেকে দিল্লী আগ্রার সঙ্গে জয়পুর, আলোয়ার, সারিস্কা, ভরতপুর বেড়িয়ে নেন। কেউ কেউ প্রতি বছর ছয় সাত দিনের ছুটি নিয়ে ভাগে ভাগে একটু একটু করেও রাজস্থান বেড়িয়ে নিতে পারেন, আবার আমেদাবাদের সঙ্গে মাউন্ট আবু ও উদয়পুরও বেড়িয়ে নেওয়া যায় চাইলে। ঠিক মতো ভ্রমন সূচী তৈরি করে সেইমতো ব্যবস্থা নিয়ে আপনার বাজেট ও সময় অনুযায়ী রাজস্থান বেড়িয়ে নিতে পারেন। এই রাজ্যটিতে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বেড়াবার জায়গাগুলির দুরত্ব বেশ বেশী। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থেকে সেই অনুযায়ী সূচী তৈরি করাই ভালো। আমি আজ এই লেখাতে মোটামুটি ভাবে একসাথে দিন বারো মতন সময় নিয়ে কিভাবে রাজস্থানের মূল আকর্ষণীয় জায়গাগুলি দেখবেন তাই নিয়েই আলোচনা করবো।
রাজস্থান ভ্রমন সূচী।
প্রথমেই বেছে নিন যাত্রা শুরু ও শেষ করবার জন্য দুটি শহরকে। আপনি হয় রাজধানী শহর জয়পুর দিয়ে শুরু করে যোধপুরে এসে শেষ করতে পারেন নতুবা যোধপুর দিয়ে সুরু করে জয়পুরে এসে শেষ করুন। দুটি শহরই দেশের অন্যান্য বড় শহর গুলির সাথে রেল, সড়ক ও বিমান পথে সরাসরি সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়াও উদয়পুর এবং ইদানীং কালে মরু শহর জয়শলমীঢ় বায়ুপথে সংযুক্ত হয়েছে, তবে বেড়ানোর সুবিধের জন্য এই দুটি শহরকেই যাত্রা শুরু বা শেষ করবার জন্য বেছে নেওয়াটাই ভালো। আমাদের সুবিধার জন্য আমি এখানে যোধপুর দিয়ে শুরু করবো আর জয়পুরে এসে শেষ করবো।
প্রথম দিন। যোধপুর।

ট্রেন বা প্লেন, যেভাবেই আসুন না কেন চেষ্টা করবেন সকাল সকাল যোধপুরে এসে পৌঁছতে। চটপট হোটেলে পৌঁছে জলখাবার খেয়ে তৈরি হয়ে নিন। এরপর প্রথমেই চলুন উমেদ ভবন প্যালেস দেখতে। চড়াই উৎরাইয়ের রাস্তায় সামান্য উচ্চতায় অবস্থিত এই প্রাসাদ সত্যিই সুন্দর, যদিও এর অনেক খানি অংশ নিয়ে এখন একটি পাঁচ তারা হোটেল হয়েছে। এর ভেতরেই একটি ভিনটেজ গাড়ীর সংগ্রহ শালা রয়েছে, সেটিকেও দেখে নিতে ভুলবেন না। উমেদ ভবন দেখে নিয়ে এর পরে চলুন যশোবন্ত থাডা দেখতে। অপূর্ব এর নির্মাণ শৈলী। দেখবার মতো এই সুবৃহৎ থাডা দেখার পরে এবার চলুন যোধপুরের মূল আকর্ষণ মেহেরানগড় দুর্গ দেখতে।

পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত এই দুর্গটির প্রত্যেক বাঁকে বাঁকে অজস্র অপার রহস্য প্রতি পদে পদে উন্মোচিত হবার জন্য অপেক্ষা করে আছে যেন। একেবারে সর্বোচ্চ তল পর্যন্ত একটু একটু করে সব কিছু দেখে নিয়ে এবার চলুন ফিরতি পথে যোধপুরের বিখ্যাত ক্লক টাওয়ার দেখে হোটেলে ফিরবো আমরা।সন্ধ্যাবেলায় চাইলে নিজেরাই পায়ে হেঁটে বা অটো ভাড়া করে টুকিটাকি কেনাকাটায় বেড়িয়ে পড়তে পারেন। আজ আমাদের যোধপুরেই রাত্রিবাস।

দ্বিতীয়দিন তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে জলখাবার খেয়ে মালপত্র সমেত বেড়িয়ে পড়ুন, আজ আমরা যাব মরুশহর জয়শলমীঢ়। প্রায় ৩০০ কিমি এই পথটুকু যেতে সময় লাগবে কম বেশী সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা। শেষ দুপুরে জয়শলমীঢ় পৌঁছে মধ্যাহ্ন ভোজন সেরে নিন। হনুমান ছকের ওপরে সত্যজিত রায়ের স্মৃতি বিজড়িত প্রিন্স হোটেলের ছাদের ওপর মেদিনীপুরের কমল গিরির সম্পূর্ণ বাঙালি হোটেলে বাড়ির যত্নে খাবার খেতেও পারেন। সত্যজিৎ রায় তাঁর বিখ্যাত বাংলা ছায়াছবি সোনার কেল্লার শ্যুটিং উপলক্ষে দীর্ঘদিন এই হোটেলেই সম্পূর্ণ শ্যুটিং ইউনিট নিয়ে থেকেছেন। হোটেলের মালিক আমন জী আজও সত্যজিৎ রায়ের কথা বলবার সময় পরম শ্রদ্ধায় দু হাত মাথায় ঠেকিয়ে প্রনাম জানান। সোনার কেল্লা বা জয়শলমীঢ় ফোর্ট এই হোটেল থেকে খুব সুন্দর ভাবে দেখা যায়। বস্তুত সমগ্র জয়শলমীঢ় শহর থেকেই এই সোনা রঙের দুর্গ অসম্ভব রঙিন হয়ে দৃশ্যমান।এই শহরের বেশীরভাগ মানুষ, তিনি ব্যবসায়ী অথবা সাধারন মানুষ যাই হোননা কেন, একবাক্যে সত্যজিৎ রায়ের কথা বলবেন আপনাকে। এঁরা সকলেই স্বীকার করেন যে সত্যজিৎ রায়ের জন্যই একসময়ের অখ্যাত এই শহর আজ বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে তার জায়গা করে নিতে পেরেছে। সন্ধ্যার সময় নিজেদের উদ্যোগে পায়ে পায়ে সোনার কেল্লার এই শহরে বেড়িয়ে নিতে পারেন। হনুমান ছক থেকে সোজাসুজি তোরণ পেরিয়ে ডান হাতে রাজার বাড়িকে রেখে সোজা বাজারের ভেতর দিয়ে জিনিষ পত্র দরাদরি ও কেনাকাটা করতে করতে এগিয়ে চলুন। উটের চামড়া দ্বারা প্রস্তুত নানারকম ব্যাগ, রকমারি রাজস্থানি রঙ্গিন পোষাক, আর সোনালী রঙের মারকানা পাথর দিয়ে তৈরি অসংখ্য পাথরের জিনিষ পত্রের দোকান পাবেন এখানে। এই গলির ভেতর দিয়ে দুর্গের দিকে যাবার পথেই পড়বে ধনরাজ ভাটিয়ার বিখ্যাত মিষ্টি আর ভুজিয়ার দোকান। এই দোকানের বিখ্যাত মিষ্টি ঘোটোয়া, অবশ্যই এর অসামান্য স্বাদ পরখ করে দেখবেন। বহুদিন এই স্বাদ ভুলতে পারবেন না তা’ আমি হলফ করে বলতে পারি। সন্ধ্যার আলোকমালায় সজ্জিত সোনার কেল্লার অবিস্মরনীয় রুপ বাইরে থেকে দর্শন করে হোটেলে ফিরে আসুন।

আজ তৃতীয় দিন। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে জলখাবার খেয়েই চলুন বেড়িয়ে পড়ি জয়শলমীঢ় দেখতে।প্রথমেই চলুন গাদিসার লেক।এখানে বোটিং করা যায়। লেকের জলে অগুন্তি বড় বড় মাছও ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে। মনোরম পরিবেশ। লেক দেখে এবার চলুন এই শহরের বিখ্যাত হাভেলী দেখতে। পাটোয়ান কি হাভেলী। সূক্ষ্ম জালির কাজ করা অপূর্ব রাজস্থানী শৈলীর কারুকার্যে শোভিত এই প্রাসাদ দেখতে অনেকখানি সময় লাগে। পরের পর তল বিশিষ্ট এই প্রাসাদ নিশ্চয়ই আপনার মন জয় করে নেবে। প্রাসাদ দেখা শেষ করে এবার চলুন জয়শলমীঢ়ের মুখ্য আকর্ষণ সোনার কেল্লা দেখতে। ভারতের অন্যতম বিখ্যাত এই দুর্গটিতে এখনো প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বসবাস করেন। এই দুর্গের অভ্যন্তরেই রয়েছে স্কুল, কলেজ, দোকান বাজার, মন্দির, রেস্তোরাঁ সহ বসবাসের জন্য যা কিছু প্রয়োজন প্রায় তার সব কিছুই। সবার আগে দুর্গের ভেতরে সুপ্রাচীন জৈন মন্দিরটি দর্শন করুন। তারপর ধীরে ধীরে সমগ্র দুর্গটিকে ঘুরে দেখুন। সোনার কেল্লা সিনেমার মুকুলের বাড়ি, প্রভৃতি সবকিছু ভালো করে দেখার পর এবার আমরা ফিরে আসবো হোটেলে। মধ্যাহ্ন ভোজন শেষ করে লাগেজ সহ চলুন বেড়িয়ে পড়ি মরুভূমি দেখতে। আজ আমরা মরুভূমিতেই তাঁবুর ভেতরে রাত কাটাবো।অনেক বড়ো জায়গা জুড়ে এই তাঁবু গুলির অবস্থান। একেকটি ঘেরা জায়গার ভেতর পাশাপাশি অনেক গুলি তাঁবুর অবস্থান এখানে। তাঁবুর ভেতরেই খাট বিছানা, বাথ্রুম সবকিছু রয়েছে।গরম জলের ব্যবস্থাও রয়েছে। ডাইনিং হল এই ঘেরাটোপের ভেতরেই আরেকটি বড়ো জায়গায়।তাঁবুতে মালপত্র রেখে এবার চলুন জিপ সাফারি করতে আর উটের পিঠে চেপে সূর্যাস্ত দেখতে। আদিগন্ত বিস্তৃত কেবল বালির সমুদ্র এখানে। যেন ঢেউয়ের পরে ঢেউ।ছোট বড়ো কেবল বালির পাহাড় যেন। মরুভূমির বুক চিরে চলেছে কেবল উটের সারি, সওয়ারি নিয়ে। কোথাও বা উটের গাড়িতে চড়ে বেড়িয়েছে লোকে। অতি সামান্য দুয়েকটি ছোট ছোট কাঁটা ঝোপ ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়েনা। এই অসাধারন দৃশ্যাবলীর মধ্যে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিগন্ত রাঙা করে অস্তগামী সূর্যের মধুর আলপনা দর্শন করে চক্ষু সার্থক করুন। ধীরে ধীরে মরুভূমির বুকের ওপর ঘন অন্ধকার নেমে আসছে। এবার তাঁবুতে ফেরার পালা। তাঁবু গুলির গোল ঘেরাটপের ভেতর বালির ওপরেই এক জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে বনফায়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীরা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সেখানে অনুষ্ঠান পরিবেশন করছেন। রাজস্থানী লোকনৃত্য, লোকসঙ্গীত, অগ্নি নৃত্য প্রভৃতি অনেক কিছু পরিবেশনের পর রাতের আহার করতে ডাইনিং হলে চলুন।

এখানে একটি কথা বলে রাখি, আপনি চাইলে তাঁবুতে না থেকে তাড়াতাড়ি জিপ সাফারি ও ক্যামেল সাফারি এবং সূর্যাস্ত দেখা শেষ করেই জয়শলমীঢ় শহরে ফিরে এসে হোটেলেও রাত কাটাতে পারেন। তবে মরুভূমিতে একরাত তাঁবুর মধ্যে কাটাতে খারাপ লাগে না। সেক্ষেত্রে তাঁবু এবং সেখানকার ব্যবস্থা বিষয়ে ভালো করে খবরাখবর নিয়ে নেবেন। যদি আপনার হাতে সময় থাকে এবং জয়শলমীঢ়ে আরো এক রাত কাটাতে পারেন, তাহলে পরের দিন অতি ভোর বেলা অন্ধকার থাকতে থাকতেই বেড়িয়ে পড়তে পারেন ১২০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত তানৌট মাতার মন্দির দেখবার উদ্দেশ্যে। পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছে এই গ্রামটিকে ঘিরে অনেক গল্প রয়েছে। আজ পর্যন্ত এই গ্রামটিতে যত সেল বা মর্টার পাকিস্তান থেকে ছোঁড়া হয়েছে তার একটিও ফাটেনি।অনেকদিন আগে এখানে একজন বুড়ি মা একা বাস করতেন। তিনি কারো সাথে বিশেষ কথা বলতেন না, এবং পূজার্চনা করে সময় কাটাতেন। তখন থেকেই কখনো কোনো অঘটন এই গ্রামে ঘটেনি, গ্রামবাসীদের বিশ্বাস এই বুড়ি মা সমস্ত বিপদ থেকে সদাসর্বদা এই গ্রামকে রক্ষা করে চলেছেন।তারপর হঠাৎই একদিন বুড়িমাকে আর এখানে দেখা গেল না। সেই থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা এখানে তানৌট মাতার মন্দির বানিয়ে নিজেরা নিষ্ঠা ভরে পূজা করে চলেছেন। তানৌট থেকে সীমান্ত ঘুরে আসতে চাইলে কেবল ভারতীয়রাই জয়শলমীঢ় মিলিটারি হেড কোয়ার্টারে আবেদন জানাতে পারেন, তবে এ বিষয়ে বিশদ নিয়ম কানুন ও তথ্যাদি বিষয়ে ভালো করে খবর নেবার পরেই এই ব্যাপারে অগ্রসর হওয়া উচিৎ হবে। তানৌট দেখে ফেরার পথে আপনি লঙ্গেওয়াল সৈনিক স্মারক স্থল দর্শন করতে পারেন এবং তারপরেও কুলধারা বা ভুতুড়ে গ্রাম দেখে জয়শলমীঢ় ফিরে আসতে পারেন। দুপুরের খাবার রাস্তার পাশে অনেক সুন্দর সুন্দর ধাবায় বসে সেক্ষেত্রে সেরে নিতে হবে আপনাকে। যদি তিন দিন জয়শলমীঢ়ে কাটাতে চান তাহলে প্রথম রাত এবং দ্বিতীয় রাত জয়শলমীঢ় শহরে হোটেলে কাটিয়ে তৃতীয় রাত মরুভূমিতে তাঁবুতে থাকতে পারেন। তবে সাধারনত সাধারন পর্যটকেরা দু’দিনেই জয়শলমীঢ় এবং মরুভূমি দেখে নেন সময়ের স্বল্পতার জন্য। তাই আমিও এটিকে অপশনালই রেখে দিলাম।



0 মন্তব্যসমূহ
Please do not enter any spam link in the comment box.