অরুণাচল প্রদেশ ভ্রমণ, পর্ব - ২
পঞ্চম দিন। দিরাং বেড়িয়ে তারপর চলুন সেলা পাস ও জঙ্গ ফল্স দেখে সোজা তাওয়াং।
তাড়াতাড়ি তৈরি
হয়ে জলখাবার খেয়েই বেড়িয়ে পড়ুন। আজ একেবারে লাগেজ নিয়েই বেড়িয়ে পড়ুন। আজ আমরা দিরাং
ঘুরে নিয়ে তারপর যাব তাওয়াং।
প্রথমেই চলুন দিরাঙের বিখ্যাত উষ্ণ প্রস্রবন দেখতে। রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে সিঁড়ি দিয়ে অনেকখানি নেমে চলুন গরম জলের কুন্ডটির কাছে।সুন্দর করে বাঁধানো এই গরম জলের কুন্ডটিতে স্নান করবার ব্যবস্থাও রয়েছে। কুন্ডের আর একটু নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে কলস্বরা কামেং নদী। মায়াময় এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য।
কুন্ড দেখে নিয়ে এবার চলুন দিরাং মনাস্ট্রী দেখতে। সবুজ একটি উপত্যকার ঠিক ওপরে অসামান্য এই মনাস্ট্রীর অবস্থান।
এর সৌন্দর্যে চোখ এবং মন দুইই পরিতৃপ্তি লাভ করবে। অনেকখানি জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই মনাস্ট্রীটি।
সব থেকে ভালো লাগবে এই জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
দিরাং থেকে অনেকেই সাংতি ভ্যালী দেখতে যায়। আপনার হাতে যদি দুই দিন দিরাঙে কাটাবার মতো সময় থাকে তবে অবশ্যই সাংতি ভ্যালীতে একদিন যাবেন।
আমাদের এই পর্বে সে সুযোগ নেই তাই আমরা এবার তাওয়াঙের পথে রওনা হবো।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
প্রথমেই চলুন দিরাঙের বিখ্যাত উষ্ণ প্রস্রবন দেখতে। রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে সিঁড়ি দিয়ে অনেকখানি নেমে চলুন গরম জলের কুন্ডটির কাছে।সুন্দর করে বাঁধানো এই গরম জলের কুন্ডটিতে স্নান করবার ব্যবস্থাও রয়েছে। কুন্ডের আর একটু নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে কলস্বরা কামেং নদী। মায়াময় এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
কুন্ড দেখে নিয়ে এবার চলুন দিরাং মনাস্ট্রী দেখতে। সবুজ একটি উপত্যকার ঠিক ওপরে অসামান্য এই মনাস্ট্রীর অবস্থান।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এর সৌন্দর্যে চোখ এবং মন দুইই পরিতৃপ্তি লাভ করবে। অনেকখানি জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই মনাস্ট্রীটি।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
সব থেকে ভালো লাগবে এই জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
দিরাং থেকে অনেকেই সাংতি ভ্যালী দেখতে যায়। আপনার হাতে যদি দুই দিন দিরাঙে কাটাবার মতো সময় থাকে তবে অবশ্যই সাংতি ভ্যালীতে একদিন যাবেন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
আমাদের এই পর্বে সে সুযোগ নেই তাই আমরা এবার তাওয়াঙের পথে রওনা হবো।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
দিরাং ছাড়িয়ে আমাদের আজকের প্রথম গন্তব্য বিখ্যাত সেই সেলা পাস।পাস অর্থাৎ গিরিপথ। এখানেও একটি অতি সুন্দর হ্রদ রয়েছে। এর নাম সেলা লেক।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এই গিরিপথটি হাবে ভাবে এবং চরিত্রে বড়ই অনিশ্চিত। এর আবহাওয়া যখন তখন অপ্রাত্যাশিত ভাবে পরিবরতিত হয় বলে এই গিরিপথটিকে সকলেই খুব সমীহ করে চলেন। প্রবল ঠান্ডা হাওয়া এবং অপ্রত্যাশিত তুষারপাতের জন্য এই পাসের খুব নামডাক। দিরাং থেকে সেলা পাসের দূরত্ব মোটামুটি ভাবে প্রায় ৭০ কিলোমিটার। এইটুকু রাস্তা যেতে সময় লাগবে প্রায় তিনঘণ্টা। এই রাস্তায় খাবার দোকানের বেশ অভাব। সেলা পাসে একটা ছোট ক্যান্টিন রয়েছে, তবে তেমন কিছু খাবার পাবেন না ম্যাগী প্রভৃতি ছাড়া।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
সেলা পাস ছাড়িয়ে কিছুদূর গিয়ে একটি ছোট সেতুর বাঁ দিকে এক স্থানীয় ঝরনার পাশে আর একটি খাবারের জায়গা পাবেন। এদেরকে অনুরোধ করলে রুটি তরকারি জাতীয় খাবার পেতে পারেন। তাই দিরাং থেকে বেরোবার সময় বেশী করে শুকনো খাবার সঙ্গে নিয়ে নেবেন রাস্তার জন্য। তীব্র ঠান্ডা হাওয়া এবং আপনার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে আচমকাই ঝিরিঝিরি তুষার পাতের সাক্ষী হতে পারেন আপনি এই খানে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেলা পাস এবং সেলা লেক দেখে নিয়ে এগিয়ে চলুন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
আমদের এর পরের গন্তব্য জঙ্গ ফলস। অনেক দূর থেকে এই জলপ্রপাতের শব্দ শুনতে পাবেন। অসাধারন এই জলপ্রপাতটি এককথায় অতুলনীয়। এই জলপ্রপাতটির আরেক নাম নুরানাং ঝরনা। গ্রামের নাম নুরানাং, সেই গ্রামের নামে ঝরনার নাম।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
সেলাপাস থেকে নুরানাং নদী উৎপন্ন হয়ে উত্তরে তাওয়াং নদীর সঙ্গে মিলিত হবার আগে এইখানে প্রায় ৩৩০ ফুট উচ্চতা থেকে নীচে ঝাপিয়ে পড়েছে এই অসাধারণ নদীটি। এই ঝরনাটি যেখানে এসে পড়ছে তার একেবারে কাছে না হলেও অনেকটা কাছাকাছি যাওয়া যায়। দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারবেন এই অসামান্য ঝরণাটিকে।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
জং ফলস থেকে আর ৪২ কিলোমিটার দূরত্বে আমাদের আজকের গন্তব্য তাওয়াং। ভারতের উত্তর পূর্ব প্রান্তের প্রায় একেবারে শেষের শহর এই তাওয়াং। সামরিক এবং প্রতিরক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারতের এই শহরটি। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এই শহরের উচ্চতা ২৬৬৯ মিটার বা ৮৭৫৭ ফুট, কেউ কেউ অবশ্য ১০ হাজার ফুট ও বলে থাকেন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
সাজানো গোছানো ছবির মতো এই অপূর্ব শহরটি প্রথম দর্শনেই আপনার মন কেড়ে নেবে। শহরে প্রবেশ করবার শুরুতেই বিরাট তোরণ আপনাকে স্বাগত জানাবে। চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সুন্দর সুন্দর বাড়ী ঘর, দোকান, বাজার, রেস্তোরা, হোটেল দিয়ে সাজানো এক খানি জমজমাট শহর তাওয়াং। হোটেলে পৌঁছে খাওয়া দাওয়া সেরে আজকের মতো বিশ্রাম।
ষষ্ঠ দিন। তাওয়াঙের স্থানীয় দ্রষ্টব্য দেখুন।
আজ সকালে প্রথমেই হোটেলের সাথে কথা বলে আগামীকাল বুমলা পাস এবং মাধুরী লেক বেড়াতে যাবার জন্য গাড়ী এবং পারমিটের ব্যবস্থা করুন। মনে রাখবেন, এই দুটো অবশ্য গন্তব্য স্থলের জন্য তাওয়াং থেকে আপনাকে এখানকার স্থানীয় গাড়ীই নিতে হবে। এই গাড়ী গুলি একটু বিশেষ রকমের হয়। আপনাদের সকলের ভোটার আই ডি কার্ডের জেরক্স কপি, এবং সরকারি অনুমতি পত্রের জেরক্স সবকিছু হোটেল কে দিতে হবে, তারাই নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে পুরো কাজটি করিয়ে রাখবেন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এরপর জলখাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়ুন তাওয়াং শহর বেড়াতে। পাহাড়ী শহর, তাই গাড়ী পারকিং করবার একটু অসুবিধে আছে এখানে। বড় রাস্তার ওপরে তিন্মাথার মোড়ে এক সুবিশাল বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে, মূর্তির ঠিক নীচে রয়েছে মন্দির।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এখানে খুব যানজট হয়, তাড়াতাড়ি দর্শন করে চলুন তাওয়াং শহরের মুখ্য আকর্ষণ তাওয়াং মনাস্ট্রী দেখতে। আগেই উল্লেখ করেছি, মহাযান বৌদ্ধ ধারার অত্যন্ত পবিত্র এই তীর্থ স্থানটি আমাদের দেশের মধ্যে বৃহত্তম এবং এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষেত্র।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
সমগ্র অঞ্চলের প্রায় ১৭টি গুম্ফা এই কেন্দ্রটি থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। পাহাড়ের ওপর অনেক খানি জায়গা জুড়ে এই মনাস্ট্রীর অবস্থান।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
সবচেয়ে আকর্ষণীয় এখানকার লাইব্রেরীটি। অসংখ্য প্রাচীন বৌদ্ধ পুঁথি অতি যত্নে লাল শালুতে মুড়ে রক্ষিত রয়েছে এখানে। দেশদেশান্তরের বৌদ্ধ ধারার গবেষকেরা এখানে এসে এই পুঁথি গুলি নিয়ে চর্চা করে থাকেন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এখান থেকে সমগ্র তাওয়াং শহরটিকে ছবির মতো সুন্দর মনে হয়।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
মনাস্ট্রী দেখার পরে মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতি। এরপরে তাওয়াং শহরের বাজারে কেনাকাটা সেরে নিতে পারেন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
বিকেলে চলুন তাওয়াং ওয়ার মেমোরিয়াল দেখতে। সম্পূর্ণ স্মারক স্থলটি ঘুরে দেখার পরে এখানকার টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তাওয়াঙ্গের সুপ্রসিদ্ধ লাইট এন্ড সাউন্ড শোটি অবশ্যই দেখবেন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এই শোটি অন্ধকার না হলে দেখা যায় না, তাই একটু অপেক্ষা করতে হতে পারে। মোটামুটি এক ঘন্টার এই শো দেখে হোটেলে ফিরে খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ুন।
সপ্তম দিন। বুমলা পাস ও মাধুরী লেক ভ্র্মন।
তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে জলখাবার খেয়ে প্রস্তুত হয়ে নিন। মোটামুটি বেলা আটটা নাগাদ সব গাড়ী গুলো একসঙ্গে রওনা হয় বুম্লা পাস এবং মাধুরী লেক দেখতে যাবার জন্য। রাস্তা মোটেই ভালো নয়, এই পথে খুব ঝাঁকুনি হয়।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এই রাস্তায় আমরা সর্বপ্রথমে দাঁড়াবো পাঙ্কাং তেং ৎসো লেক দেখতে। বরফে ঘেরা পাহাড়ের মাঝখানে একটুকরো হ্রদ, শীতকালে সম্পূর্ণ বরফে জমে যায় এই হ্রদ।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
বুমলা পাস ভারত ও চীন দেশের বর্ডার। চতুর্দিকে সুউচ্চ পর্বত শ্রেনী। ইতস্তত বরফের স্তুপ। খুব ঠান্ডা এখানে। বছরের বেশীর ভাগ সময় বরফে ঢাকা থাকা এই গিরিপথটি।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
আমাদের অকুতোভয় সেনা জওয়ানেরা এই অসম্ভব প্রতিকুলতা সহ্য করেও দিনের পর দিন অক্লান্ত ভাবে এই সীমান্ত পাহারা দিয়ে চলেছেন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখানে এই ঠান্ডাতে আপনাকে গরম চা পান করানো হবে বিনামূল্যে।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
খানিকক্ষণ এখানে কাটিয়ে এবার চলুন মাধুরী লেক দর্শন করতে।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এই প্রসঙ্গে জেনে রাখুন, এই অঞ্চলটির আবহাওয়াও অত্যন্ত অনিশ্চিত। প্রায় সবসময়েই গুঁড়িগুঁড়ি তুষারপাত হয় এখানে, খুব কমই রোদ ঝলমল প্রকৃতি এখানে উঁকি দিয়ে যান। আচমকা তীব্র তুষারপাত লক্ষ্য করা যায় এখানে। রিতীমতো বড়ো বড়ো বরফ বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তাই কোনো ব্যাপারে অযথা উত্তেজিত না হয়ে আপনার ড্রাইভার এবং সেনাবাহিনীর জওয়ানদের পরামর্শ মেনে চলুন।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
বুম্লা পাস থেকে ফিরতি পথে সামান্য কিছুটা এগিয়ে এসে রাস্তাটি একটি সেনা চেকপোষ্টের পাস দিয়ে বেঁকে সোজা এসে পড়েছে মাধুরী লেকে।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এই লেকটিও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা। লেকটিকে ঘিরে রয়েছে শ্বেত শুভ্র বরফের মুকুটে সজ্জিত পর্বত চূড়াগুলি।১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই জায়গাটি ছিল একটি সবুজ ঘাষে ভরা বিরাট উপত্যকা অঞ্চল। স্থানীয় অধিবাসীরা এখানে তাদের পশু চরাতে নিয়ে আসতেন। ঐ বছর এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয়েছিল এইখানে। সেই ভূকম্পের ফলে সেই বিরাট সবুজ ক্ষেত্রটি হঠাৎ সম্পূর্ণ বসে গিয়ে এই সুবিশাল হ্রদটির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ভাবে এই অতি সুন্দর হ্রদটির নাম সাংৎশের লেক(Shonga-Tser Lake)।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
পরবর্তী কালে মাত্র ১৯৯৭ সালে একটি বিখ্যাত হিন্দী চলচ্চিত্র “কোয়লা” যেখানে বিখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী শ্রীমতী মাধুরী দীক্ষিত একটি নাচের দৃশ্যের শ্যুটিং করেছিলেন এই লেকের অসামান্য দৃশ্যপটটি কে ঘিরে, সেই থেকে অভিনেত্রীকে সম্মান জানিয়ে এই লেকটির নাম লোকমুখে হয়ে দাঁড়ায় মাধুরী লেক এবং লেকটির এই নামটিই আজ সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় সারা দেশে।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
অত্যন্ত মনোরম এই লেকটি ছবি শিকারীদের কাছে অতি জনপ্রিয়। এখানে খাবার জন্য সেনা বাহিনীর একটি ক্যান্টিন রয়েছে। মাধুরী লেক দেখে এবার হোটেলে ফিরে আসুন। সন্ধ্যেবেলায় নিজেদের উদ্যোগে পায়ে পায়ে বেড়িয়ে নিতে পারেন তাওয়াঙ্গের রাস্তায়। স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলিতে স্থানীয় খাবার খেয়েও দেখতে পারেন। মোড়ের মাথায় কোচবিহার থেকে আসা একটি বাঙালি পরিবারের বেশ বড় একটি মিষ্টির দোকানও রয়েছে এখানে। বেড়িয়ে ঘুরে হোটেলে ফিরে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়ুন।
অষ্টম দিন। তাওয়াং থেকে বমডিলা।
আজ আমাদের নেমে যাবার দিন। তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে জলখাবার খেয়েই বেড়িয়ে পড়ুন। আজ প্রথমেই আমরা যাব তাওয়াং শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে উরগেলিং মনাস্ট্রী দেখতে।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
এটি বৌদ্ধ ধর্মের ষষ্ঠ দালাইলামা সাঙ্গিয়াং গিয়াতসোর জন্মস্থান। বৌদ্ধদের কাছে এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে এবার আমাদের ফিরে যাবার পালা। যে রাস্তা ধরে আমরা তাওয়াং এসেছি আজ সেই পথেই আমরা ফিরে যাব। আমরা যাব দিরাং পেরিয়ে বমডিলার পথে।
এই রাস্তায় আমরা আজ প্রথমে দাঁড়াবো যশবন্ত গড় সেনা স্মারক স্থল দেখবার জন্য। তাওয়াং থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের এই স্মারক স্থলটিতে পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘন্টার মতো। জং বা নুরানাং ঝরনাটিকে বাঁ হাতে রেখে আরো কিছুটা এগিয়ে এসে এই যশবন্ত গড় মেমোরিয়াল।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর
গাড়োয়াল রেজিমেন্টের ফোর্থ ব্যাটেলিয়নের বীর জওয়ান যশবন্ত সিং রাওয়াত ১৯৬২ সালের চীন
ভারত যুদ্ধের সময় তৎকালীন ভারতের নর্থ ইষ্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি বা নেফাতে যা বর্তমানে
অরুণাচল প্রদেশ নামে আমাদের দেশের অন্যতম প্রান্তিক সীমান্তবর্তী রাজ্য, সেইখানে তার
আরো দুই জন সহ যদ্ধার সঙ্গে কর্তব্যরত ছিলেন।১৭ই নভেম্বর ১৯৬২ সালে আচমকাই চীনা সৈন্যরা
নুরানাঙ্গের এই ভারতীয় মিলিটারি পোষ্টটিতে হামলা চালায়। অতি অল্প সংখ্যক সহযোদ্ধাকে
নিয়ে এবং চীনাদের আধুনিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে মাত্র কয়েকটি রাইফেল নিয়ে এই যোদ্ধারা এই
হামলা রুখে দিয়েছিলেন। শেষ সময় পর্যন্ত আহত অবস্থার ভেতরেও বীর যশবন্ত সিং রাওয়াত লড়াই
করে প্রাণ ত্যাগ করেন। চীনা পক্ষে প্রায় ৩০০ সৈন্য এই যুদ্ধে নিহত হয়। বীর সৈনিক যশবন্ত
সিংহের এই অসম সাহসিকতার নিদর্শন স্বরূপ যুদ্ধের পরে এই যুদ্ধস্থলটিকে সেনাবাহিনীর
পক্ষ থেকে যশবন্ত গড় নামে অভিহিত করা হয় এবং যশবন্ত সিং রাওয়াতকে মরনোত্তর মহাবীর চক্রে
ভূষিত করাহয়।
রাস্তার ধারে ডানদিকের পাহাড়ের ওপর খুব সুন্দর করে সাজানো এই স্মারক স্থলটি আপনাদের খুব ভালো লাগবে। এখানকার সেনা ক্যান্টিন থেকে গরম জামা কাপড় এবং অন্যান্য জিনিস বিক্রি করা হয়। রাস্তার ওপরে সেনা পরিচালিত একটি সুন্দর খাবার দোকান রয়েছে। গরম গরম চা পকোড়া এবং অন্যান্য ভারী খাবারও এখানে পাওয়া যায়।
যশবন্তগড় ওয়ার
মেমোরিয়াল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার পরেই সেলা পাস। পৌঁছতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগবে।
এখানে খাওয়ার জন্য দাড়াতে পারেন আর যদি যশবন্তগড়ে খেয়ে নিয়ে থাকেন তাহলে না দাঁড়িয়ে
এগিয়ে চলুন কারন আসার সময়ে এখানে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম।
সেলা পাস থেকে দিরাং প্রায় ৬৫ কিলোমিটার রাস্তা, সময় লাগবে কমবেশি আড়াই ঘন্টা। আবার দিরাং থেকে বোমডিলা প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা, সময় লাগবে কমবেশি এক থেকে দেড় ঘন্টা।
![]() |
| Arunachal Bhromon |
সেলা পাস থেকে দিরাং প্রায় ৬৫ কিলোমিটার রাস্তা, সময় লাগবে কমবেশি আড়াই ঘন্টা। আবার দিরাং থেকে বোমডিলা প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা, সময় লাগবে কমবেশি এক থেকে দেড় ঘন্টা।
বোমডিলা পৌঁছে সোজা চলুন বোমডিলা মনাস্ট্রী দেখতে। অনেক খানি জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই মনাস্ট্রীটি। গাছপালা দিয়ে ঘেরা ভারি মনোরম এর পরিবেশটি। যত্ন নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখে নিন এই জায়গাটি। মনাস্ট্রী ঘুরে নিয়ে এবার চলুন হোটেলে।
নবম দিন। বোমডিলা ঘুরে নিয়ে আমরা যাব আসামের তেজপুর।
আমরা আমাদের সফরের প্রায় প্রান্তে এসে পড়েছি। আজ আমরা বোমডিলা থেকে রওনা হবো আসামের তেজপুর শহরের দিকে। তাই সকালে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে জলখাবার খেয়ে মালপত্র সহ বেড়িয়ে পড়ুন।বোমডিলা শহরের অসাধারণ ভিউ পয়েন্ট থেকে ঢেউ তোলা অপূর্ব হিমালয় পর্বতের শোভা আপনার অনেকদিন মনে থাকবে।
এখান থেকে আমরা এগোবো তেজপুরের দিকে। বোমডিলা থেকে তেজপুর প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পথ। সময় লাগবে সাড়ে পাঁচ ঘন্টা। প্রথম দিকে রাস্তা বেশ খারাপ। আসাম সীমান্তে প্রবেশ করার পর মোটামুটি। রাস্তায় খাবার জায়গা পাবেন। অল্প বিকেল বেলা তেজপুরের হোটেলে পৌঁছেই বেড়িয়ে পড়তে পারেন তেজপুর শহর দেখতে। বেশ জমজমাট এবং বড় শহর এই তেজপুর।শহরে অটো রিক্সা পাবেন। নিজেদের মত করে চটপট শহর বেড়িয়ে নিতে পারেন। রাত্রে হোটেলে ফিরে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।
দশম দিন। তেজপুর থেকে গৌহাটি। রেল স্টেশন অথবা বিমান বন্দরে যাত্রা শেষ।
আজ সকালে তৈরি হয়ে জলখাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়ুন। তেজপুর থেকে গৌহাটি প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পথ, গাড়ীতে সময় লাগবে কম বেশী প্রায় পাঁচ ঘন্টা। যদিও রাস্তা যথেষ্ট ভালো।
অনেকে বোমডিলা
থেকে একটি দিন আসামের নামেরি রিজার্ভ ফরেস্ট বেড়িয়ে নিয়ে সেখান থেকে সরাসরি গৌহাটি ফেরেন। সেক্ষেত্রে আপনি আরো একটি রাত বেশী
রাখলে জঙ্গল বেড়ানোটা যথার্থ হবে।
এই প্রতিবেদনটিতে
আমি সাধারন ভাবে অল্প সময়ে অরুণাচলের সবচেয়ে জনপ্রিয় বেড়ানোর সারকিটটির বিষয়ে আলোচনা
করবার চেষ্টা করেছি। এরপরে আপনি চাইলে কয়েকটি জায়গা যুক্ত করতে পারেন আবার এই জায়গা
গুলিতে থাকার দিন সংখ্যা আপনার মনের মতো করে বাড়িয়েও নিতে পারেন।
অরুণাচল সম্পর্কিত
আরো বিশদ জানবার জন্য আপনারা আমায় ব্লগে লিখে পাঠাতে পারেন, চেষ্টা করবো যত তাড়াতাড়ি
সম্ভব আপনাদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে।
সমাপ্ত





































0 মন্তব্যসমূহ
Please do not enter any spam link in the comment box.