সিকিম


আমাদের
দেশের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির অন্যতম হচ্ছে সিকিম রাজ্য। উত্তর
ও উত্তর পূর্বে চীন দেশ, পূর্বে ভুটান, পশ্চিমে নেপাল এবং দক্ষিনে ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ এই রাজ্যটিকে ঘিরে রয়েছে। স্বাধীনতার বহু বছর পরে মাত্র ১৯৭৫ সালে সিকিম স্বাধীন ভারতের ২২তম অুঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তার আগে পর্যন্ত সিকিমে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং ভারতবর্ষ কেবল এই দেশটিকে সেইসময় সামরিক প্রতিরক্ষা দান করতো। বর্তমান সময়ে সিকিম আমাদের দেশের পাহাড়ী রাজ্যগুলির ভেতরে সবচেয়ে সাক্ষর রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অত্যন্ত কম জনসংখ্যা বিশিষ্ট এই রাজ্যটি বর্তমানে আমাদের দেশের একমাত্র ঘোষিত জৈব রাজ্য অর্থাৎ এইরাজ্যে উৎপাদিত সমস্ত খাদ্য বস্তু প্রাকৃতিক সার দ্বারা পুষ্ট করা হয়ে থাকে। ভারতের
সর্বোচ্চ তথা পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা এই সিকিম রাজ্যেই অবস্থিত।
পশ্চিমবঙ্গের
শিলিগুড়ি শহরের বেশ কাছে এই রাজ্যটি এখনো পর্যন্ত রেলপথে সংযুক্ত নয়, যদিও কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক বর্তমানে এই রাজ্যকে রেলপথে যুক্ত করবার জন্য ভাবনা চিন্তা করতে শুরু করেছেন। আপাততঃ সবচেয়ে কাছের রেল ষ্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি। সড়ক পথেও সরাসরি শিলিগুড়ি হয়ে অতি সহজে এই রাজ্যে প্রবেশ করা যায়। এই
রাজ্যের
রাজধানী গ্যাংটক।
সিকিম
রাজ্যটি পাহাড়ের ওপর এবং মহামহিম হিমালয়ের অত্যন্ত আদরের কাঞ্চনজঙ্ঘার সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর রূপ এই রাজ্য থেকেই দেখা যায় বলে বছরের বেশীর ভাগ সময় বিশেষত মার্চের মাঝামাঝি থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ এবং তারপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত এই রাজ্যে প্রচুর পর্যটকেদের ঢল নামে। শারদীয়া পূজার উতসবের ছুটির দিন গুলো, গরমের ছুটির সময়ে সিকিমে প্রচুর পরযটক দেখা যায়।
পর্যটনের
সুবিধার্থে এই রাজ্যের বেড়ানোর জায়গা গুলিকে মোটামুটি ভাবে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। মনে রাখা উচিৎ এই রাজ্যটিকে উপভোগ করতে হলে পর্যায় ক্রমে এই রাজ্যটি বেড়ালে বেশী আনন্দ পাওয়া যাবে।এর মধ্যে জনপ্রিয় বিভাগ গুলি হল,
১) ওল্ড সিল্ক রুট
২) গ্যাংটক(লোকাল, ছাঙ্গু লেক, নিউ বাবা মন্দির, নাথুলা পাস)– পেলিং – রাবাংলা- নামচি- টেমি টী গার্ডেন।
৩) নর্থ সিকিম ট্যুর(গ্যাংটক সহ লাচেন, লাচুং, ইয়াম্থাং, গুরুদোংমার)
এছাড়াও
আরো অনেকগুলি জায়গা, যেমন উত্রে, হিলে, ভার্সে প্রভৃতি জায়গাগুলিও অধুনা বেশ জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
সিকিম
ওল্ড
সিল্ক
রুট
ট্যুর।
প্রাচীনকালে
ভারতবর্ষের বনিকেরা অনেক বাধা বিঘ্ন জয় করে উত্তাল সমুদ্র বা দুরতিক্রম্য পর্বতমালার বাধা দূর করে দূর দূর দেশের সঙ্গে বানিজ্য করতেন। অন্যান্য দেশের বনিকেরাও তাদের দেশের মহার্ঘ্য পশরা সাজিয়ে বানিজ্য করতে আসতেন আমাদের দেশে। আমাদের ইতিহাসে বারবার ঘুরে ঘুরে এসেছে এইসব বাণিজ্য পথগুলির বিবরণ। আজ বলবো সেই রকমই একটি বানিজ্য পথের কথা। সিকিম রাজ্যের পূর্ব প্রান্তের এই বানিজ্য পথটি ইদানীং কালে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম।
অল্প কয়েকদিনের ছুটি পেলেই নিজেদের মতন করে সময় ও বাজেট অনুসারে সাজিয়ে নেওয়া যায় এই ট্যুর। সাথে আমাদের পশ্চিমবাংলার কয়েকটি অল্প পরিচিত জায়গা জুড়ে নিয়ে এক অবিস্মরণীয় ভ্রমন স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে এই বেড়ানোটি। কোলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি যাবার এখন অনেক ট্রেন, আগে থেকে দিঙ্কখন ভেবে ট্রেনের সীট বুকিং করে রাখলে কোনো অসুবিধেও নেই। না হলেও সারাদিন ধরে কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক বাস সরাসরি শিলিগুড়ি যাচ্ছে এবং আসছে। আজকাল অনলাইনেও বাসের টিকিট আগে থেকে বুক করা যায়।এসি, নন এসি সব রকম বাস পাবেন, আর যদি মনে হয় বাস বা ট্রেনের ধকল নেবেন না তাহলে ফ্লাইট ধরুন। খুব অল্প সময়ে শিলিগুড়ি শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত বাগডোগড়া বিমানবন্দরে পৌঁছে যেতে পারেন।
আমার
মতে প্রথমদিন খুব সকাল সকাল শিলিগুড়ি পৌঁছে যান। আগের থেকে আপনার সম্পূর্ণ ভ্রমন সূচী অনুসারে গাড়ীর ব্যাবস্থা করে রাখুন। সিকিমের নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ীই নেবার চেষ্টা করবেন।নইলে মাঝপথে অযথা গাড়ী বদল করবার হয়রানি হতে পারে। শিলিগুড়িতেই
জলখাবার পর্ব মিটিয়ে সোজা ডান দিকে তিস্তাকে রেখে চলুন কম পরিচিত এক অসামান্য পাহাড়ী গ্রাম “সিলারিগাঁও”।সিলারিগাঁও
ছাড়াও আপনি থাকতে পারেন, রামধুরা বা ইচ্ছেগাঁও তেও। তবে সিলারি গাঁও থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ অসাধারণ।এই জায়গা গুলি কিন্তু সিকিম রাজ্যের সীমান্তবর্তী আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেই অবস্থিত।
মনে রাখবেন এই ওল্ড সিল্ক রুট ভ্রমনে প্রায় কোনো জায়গাতেই আপনি তথাকথিত হোটেল পাবেন না। সবই হোম স্টে। অর্থাৎ স্থানীয় লোকেরা তাদের বাড়ীগুলিকে খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে প্রায় হোটেলের মতই ব্যাবস্থা করে থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। প্রায় বেশির ভাগ জায়গাতেই
টিভি পাবেন না। মোবাইলের টাওয়ার পাবেন, তবে সব জায়গায় সব নেটওয়ার্ক পাবেন না। হোম স্টে তে সব জায়গাতেই খাবার প্রায় একই রকমের। ভাত, রুটি, ডাল, সব্জি, সকালে ডিম কারি, রাতে চিকেন কারি। মোটামুটি এই মেনুই প্রায় পুরো গন্তব্য পথের সব জায়গাতেই পাবেন। সঙ্গে আচার, পাঁপড়,
স্যালাড এগুলো পাবেন। সকালে চা এবং বিস্কুট, জলখাবারে পুরী-সব্জি। সন্ধ্যায় চা এবং সঙ্গে
গরম গরম পকৌড়া পাবেন। একই মেনু সব জায়গাতেই। পরিস্কার
পরিচ্ছন্ন ঘর, বাথরুম। ইদানীং কালে পর্যটকদের সুবিধের জন্য
প্রায় সব জায়গাতেই বাথরুমে ইংলিশ স্টাইল কমোডের বন্দোবস্থ রয়েছে।
প্রথমদিন সিলারিগাঁওতে কাটিয়ে ভোরবেলা পায়ে হেঁটে আড়াই কিলোমিটার
দূরে রামিতে ভিঊ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং তিস্তা নদী দর্শন করে আসুন। ফিরে এসে
তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে জলখাবার খেয়ে মালপত্র সমেত বেড়িয়ে পড়ুন।
আজ দ্বিতীয়দিনে আমরা থাকবো আরিতারে। প্রথমেই দেখে নিন আরিতার লেক, আরিতার মনাস্ট্রী,
মাঙ্খিম ভিউ পয়েন্ট। এরপর হোমস্টেতে পৌঁছে মধ্যাহ্ন ভোজন।
আরিতার থেকে কিছুটা দূরে এক স্বপ্নীল স্বর্গীয় বাতাবরণের মধ্যে
রয়েছে এক অত্যন্ত সুন্দর লেক। এর নাম ফুসরে।এখনো পর্যন্ত পর্যটকদের লোলুপ আগ্রাসনে ধ্বস্ত হয়ে পড়েনি ফুসরে।তবে ফুসরে বেড়াতে
গেলে হাতে আর একটা দিন রেখেু আরিতারে মোট দুদিন থাকতে হবে। যাই হোক, আপাতত আমরা ফুসরে যাচ্ছি না, তাই রাত্রে ডিনার শেষে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন।
তৃতীয়দিন জলখাবার খেয়ে
তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ুন। আজ আমরা থাকবো অনেকটা উঁচুতে, পদমচেনে। ইচ্ছে করলে আপনি আরো
উঁচুতে জুলুকে গিয়েও থাকতে পারেন, তবে আমার পরামর্শ হচ্ছে হঠাৎ করে খুব বেশি উচ্চতার
ধকল আপনার বা দলের অন্যদের শরীর নিতে পারবে কিনা তা’ কিন্তু আপনি
জানেন না। বহুবার এমন হয়েছে যে রাত্রে অসম্ভব শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ার কারনে যাত্রীদের নামিয়ে
আনতে হয়েছে, আর এই সব অঞ্চলে চাইলেই আপনি ডাক্তার বা হাসপাতাল পাবেন না। তাই যা করবেন সইয়ে
সইয়ে করুন। বিশেষ করে
দলে যদি বয়স্ক কোনো ব্যাক্তি থাকেন তাহলে এমন চেষ্টা করাটা উচিৎ হবে না। তাই আমি সাধারণত
পদমচেন বা নিমাচেনেই থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
আরিতার থেকে পদমচেন যাবার পথে আমাদের রংলি চেক পোষ্টে থামতে
হবে। রংলি বেশ
বড়সড় একটি জায়গা। মনে রাখুন, এই সম্পূর্ণ ভ্রমন পথে শিলিগুড়ি ছাড়ানোর পরে একমাত্র রংলিতেই আপনি
ব্যাঙ্ক এবং ATM পাবেন, এমনকি আর অন্য কোনো
জায়গাতেই পাবেন না, তাই সিল্ক রূট বেড়াতে এলে শিলিগূড়ি থেকেই
ক্যাশ তুলে নেবেন, নতুবা অসুবিধে হতে পারে। এই রংলি চেক পোষ্টে
সমস্ত পর্যটককে নিজের ভোটার
আই ডি কার্ডের জেরক্স এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিয়ে অনুমতি পত্র সংগ্রহ
করতে হবে। একে বলে ইনার লাইন পারমিট। এই ইনার লাইন পারমিট ছাড়া সিল্ক রুট ভ্রমন সম্ভব নয়, তাই
বাড়ী থেকে রওয়ানা হবার আগেই প্রত্যেকের কয়েক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং কয়েক কপি
করে ভোটার আই ডি কার্ডের জেরক্স কপি ব্যাগে ভরে নিন। অনেক সময় রাস্তায় অতিরিক্ত ছবি এবং জেরক্সের দরকার হতে পারে, তাই
কয়েক কপি বেশি সঙ্গে রাখাটা জরুরি। গাড়ীর জন্য পারমিশন এবং কাগজ একই সাথে রংলি চেকপোষ্টেই করতে
হবে। এর জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গাড়ির কাগজ পত্র সমেত কিছু টাকাও জমা করতে হয়। সব কাজই করবেন আপনার ড্রাইভার, তাই
তার সাথে কথা বলে সব কিছু তাকেই দিন। জমজমাট রংলি বাজারে আপনারা দলের বাকিদের নিয়ে কেনাকাটা করুন, মোমো
খান, চা খান, ততক্ষনে ড্রাইভার গাড়ী নিয়ে
যাবে এবং সকলের পারমিট এবং গাড়ির পারমিট করিয়ে ফিরে আসবে। মোটামুটি
দেড থেকে দু ঘন্টা বা কখনো কখনো আরো বেশী সময় লাগে রংলিতে।
রংলি থেকে বেরিয়ে কালী ঝোরা এবং ব্রীজ পেরিয়ে এবার চলুন কিউ
খোলা ঝর্না দেখতে। মোটা জলধারা, খরস্রোতা কিউ খোলা রাস্তা ভাসিয়ে ঝরঝরিয়ে বয়ে
চলেছে এখানে। এখানে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে এগিয়ে চলুন নিমাচেনের দিকে। নিমাচেনে বন বিভাগের চেক পোষ্টে পুনরায় পারমিটের কাগজ দেখিয়ে
সরকারি নিয়ম মোতাবেক মাথাপিছু টাকা জমা করে রসিদ নেবেন, এই
রসিদ গুলি ফেরার পথে চেকপোষ্টে জমা করে আসতে হবে। যত্ন করে সব কাগজ গুলো রাখবেন। নিমাচেন পেরিয়ে পদমচেনে পৌছে মুখ হাত পা ধুয়ে লাঞ্চ করুন। অতঃপর এই
সুন্দর শীতল আবহাওয়ায় নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক অতি মনোরম বিকেল আর সন্ধ্যে উপভোগ
করুন। চাইলে পাহাড়ি
পথে হেঁটেও আসতে পারেন, উচু নিচু মসৃণ পথে হাটতে ভালোই লাগবে তবে মনে
রাখবেন অন্ধকার হবার আগে অবশ্যই আপনাকে আজকের বাসস্থানে ফিরতে হবে। এই অঞ্চলে
রাস্তায় আলো নেই, কয়েকটি জায়গায় কিছু কিছু ব্যাক্তি তাদের ব্যাক্তিগত
উদ্যোগে সামান্য কিছু অংশে হয়তো সোলার লাইটের ব্যবস্থা করেছেন, তবে তা’ খুবই কম। সিকিমে প্রকাশ্যে ধুমপান নিষেধ, তাই
রাস্তা ঘাটে যেখানে সেখানে সিগারেট না খাওয়াই ভালো।
পরদিন অর্থাৎ চতুর্থ দিন অতি ভোরে উঠে তৈরি হয়ে নিন। আগের দিন
রাতেই হোমস্টে কে অবশ্যই বলে দেবেন পরদিন আপনাদের সকাল সাতটার ভেতর জলখাবার দেবার জন্য। মোটমাট তাড়াতাড়ি রওনা
হয়ে প্রথমেই চলুন জুলুক
জিগজাগ ভিউ পয়েন্ট।
এখান থেকে নিচে ফেলে আসা পাহাড়ি পথের রেখা ভীষন সুন্দর দেখায়। জুলুক থেকে
চলুন থাম্বি ভিউ পয়েন্ট। এইখান থেকে কাঞ্চনঞ্জঙ্ঘার বিস্ময়কর রূপ আপনার চিরদিন মনে থাকবে।
থাম্বিতে
কিছুক্ষন কাটিয়ে এগিয়ে চলুন নাথাং ভ্যালী দেখতে। ওপর থেকে নিচের অসাধারণ উপত্যকার রূপ সত্যি মনে থাকার মতো। নাথাং ভ্যালীর
পরে এবার চলুন ওল্ড বাবা মন্দির দেখতে। প্রায় চোদ্দ হাজার ফুট উচ্চতায় সেনাবাহিনীর দ্বারা সম্পূর্ণ
নিয়ন্ত্রিত এই বাবা মন্দির সেনাবাহিনীর এক জওয়ান বাবা হর ভজন সিংহের স্ম্রিতির উদ্দ্যেশে
নিবেদিত। জাতি ধর্ম
বর্ণ নির্বিশেষে সকল সেনা জওয়ান বিশ্বাস করেন যে বাবা হর ভজন সিং, আজও
সর্বদা মাতৃভূমির সম্মান রক্ষায় তাঁর সৈনিকের কর্তব্যে অটল থেকে সম্পূর্ণ এই কঠিন চীন
সীমান্ত পাহারা দিয়ে চলেছেন।
সেনা জওয়ানেরা নিজেরা বাবার পুজো করেন, কিসমিস ভোগ সমস্ত ভক্ত ও অভ্যাগতদের ভেতর বিতরণ
করেন। এখানে সেনা
বাহিনীর পক্ষ থেকে সকল অতিথিকে চা পান করানো হয়।এখানে একটা কথা অবশ্যি মনে রাখবেন। জুলুকের পর থেকেই যত ওপরে ওঠা হবে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমান
ততই কমতে থাকবে, তাই অযথা কথা বলা, গান গাওয়া, হৈ হৈ করা, বা কোথাও গাড়ী দাঁড়ালেই দৌড়াদৌড়ি করা একেবারেই
চলবে না। বাবা মন্দিরে যদি শ্বাস জনিত অসুবিধা বোধ হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেনা জওয়ানদের বলুন। ওনারাই সব
ব্যবস্থা করবেন।
বাবা মন্দির দেখে এবারে চলুন কুপুপ লেক বা এলিফ্যান্ট লেক দেখতে। এখান থেকে
নাথুলা পাসের ঝলক দেখা যায়। হাতীর পিঠের মতো দেখতে লেকটি আকারে ছোট।
এখানে কিছুক্ষন কাটিয়ে যে পথ দিয়ে এসেছি সেই
পথ দিয়েই আবার ফিরে চলুন এখন পদম চেনে। আজকের মধ্যাহ্ন ভোজন হতে একটু অবেলাই হয়ে যাবে মনে রাখবেন, তাই সকালে বেরোবার সময় সঙ্গে কিছু শুকনো খাবার দাবার রাখবেন নিজেদের সুবিধার জন্য।আর একটা কথা এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, পুরো সিল্ক রূট ট্যুরে একমাত্র রংলি ছাড়া আপনারা আর কোথাও
কোনো
দোকান বাজার পাবেন না, তাই কেনাকাটা যা করবার তা’ একমাত্র রংলিতেই করে নেবেন।
চতুর্থ রাত্রিটাও পদমচেনে
কাটিয়ে পরদিন ভোরে অর্থাৎ পঞ্চম দিনে নেমে আসুন পাহাড় বেয়ে বেয়ে একেবারে রেশী নদীর কোলের ওপর অবস্থিত রেশীখোলাতে।চতুর্দিকে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এ এক অসাধারণ জায়গা। তীব্র কলস্বরে বয়ে চলেছে রেশী নদী, আপনি রয়েছে একেবারে ঠিক নদীর পারে। এই নদীর এক পাড় সিকিমে আর এক পাড় পশ্চিমবাংলায়। আমি নিশ্চিত এই রেশীখোলা আপনার মন কেড়ে নেবেই।
এই যাত্রায় কি আপনার ছুটি ফুরিয়ে গেছে? যদি ছুটি আর না থাকে তাহলে ষষ্ঠ দিনে রেশী খোলা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় তিস্তার ধারে দুপুরের ভোজন সমাপ্ত করে সন্ধ্যার আগেই নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে রাতের ট্রেন ধরে কোলকাতা ফিরে আসুন। আর যদি আরো একটা দিন হাতে থাকে আপনার তাহলে সূচীটায় একটু অদল বদল করে নিয়ে আরিতার থেকে তৃতীয় দিন যেতে পারেন রোলেপ। সেক্ষেত্রে তৃতীয় রাত রোলেপেই কাটান। রোলেপে রয়েছ অসামান্যা রোলেপ নদী। ব্রীজের ওপর থেকে রোলেপের ওপর সূর্যাস্ত আপনার অনেক দিন মনে থাকবে। এ ছাড়াও রোলেপে আছে এক অত্যাশ্চর্য মন ভালো করা ঝরনা যার নাম বুদ্ধ ফল্স।সূর্যের আলো পড়ে বুদ্ধ ফলসের ধোঁয়ার মত জলকণায় ছড়িয়ে যায় এক মায়াবী রঙের আলপনা, এ দৃশ্য জীবনে কখনো ভোলার নয়। যদি রোলেপ যান তাহলে চতুর্থ ও পঞ্চম রাত থাকুন পদমচেনে এবং ষষ্ঠ দিনে থাকুন রেশীখোলাতে এসে আর সপ্তম দিন সকালে রেশীখোলা থেকে বেরিয়ে আগের মতোই রাস্তায় তিস্তার ধারে হোটেলে মধ্যাহ্ন ভোজন করে নিউ জলপাইগুড়ি এসে রাতের ট্রেন ধরুন।
সুন্দরী
সিকিম দু হাত বাড়িয়ে আবাহন করে তার অতিথিদের। সিকিমের মানুষজন খুব অতিথি পরায়ন এবং ভালো। আশাকরি ওল্ড সিল্ক রুট বেড়াতে আপনাদের ভালোই লাগবে।
পরের
অংশে সিকিমের অন্যান্য বেড়ানোর জায়গা গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আপনাদের কারো কোনো বিষয়ে জানবার থাকলে কমেন্ট বক্সে আমায় লিখে জানাবেন, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো উত্তর দিতে।
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।












0 মন্তব্যসমূহ
Please do not enter any spam link in the comment box.