গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ (Guwahati-Shillong-Kaziranga tour guide)
গৌহাটি-শিলং-চেরাপুঞ্জি-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ
![]() |
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
মোটামুটি
ভাবে হাতে সাত-আট দিন সময় থাকলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন অসাধারণ প্রাকৃতিক
সৌন্দর্য দিয়ে ঘেরা আমাদের নিকট প্রতিবেশী এই দুই রাজ্য থেকে। এগুলি হলো আসাম এবং মেঘালয় রাজ্য। অল্প
সময়ে যেটুকু দেখা যায় সেই সমস্ত বিশেষ বিশেষ জায়গা গুলি এই কয় দিনে আমরা ভালোভাবেই ঘুরে নিতে পারবো।
আসাম
![]() |
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
প্রথমেই বলে নেওয়া যাক আসাম রাজ্যটি সম্পর্কে। আমাদের এই বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশ ভারতবর্ষের উত্তরপূর্ব কোণে, মহামহিম হিমালয়ের দক্ষিণ কোলে, ব্রহ্মপুত্র নদ ও বরাক নদীর সুবিস্তৃত উপকূল জুড়ে এই আসাম রাজ্যটির অবস্থান।প্রায় ৭৮৪৩৮ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এই রাজ্যটির উত্তরে ভুটান এবং অরুণাচল প্রদেশ, পূর্বে নাগাল্যান্ড এবং মনিপুর রাজ্য, দক্ষিণে মেঘালয়,ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং বাংলাদেশ আর পশ্চিমে আমাদের পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমদিকের মাত্র ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ শিলিগুড়ি করিডোর দ্বারাই এই রাজ্যটি আমাদের দেশের বাকি সমস্ত অংশের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে রেখেছে।
![]() |
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
প্রায়
প্রাগৈতিহাসিক
সময় থেকে এই রাজ্যটিতে মানব জাতির অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন প্রস্তর যুগের
বেশ
কিছু নিদর্শন এখানে পাওয়া গিয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী এবং প্রথম শতাব্দীর নিদর্শনও গৌহাটির কাছে অম্বরি নামক স্থান থেকে পাওয়া গিয়েছে। শুঙ্গ ও কুষাণ যুগের ব্যবহৃত জিনিসপত্রাদিও এখানে পাওয়া গিয়েছে। ভারতের মহান প্রাচীন পুঁথিগুলিতে গৌহাটি এবং তার সন্নিহিত জায়গা গুলিকে প্রাগজ্যোতিষপুর নামে অভিহিত করা হয়েছে। আমাদের দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং অত্যন্ত সম্মানিত তীর্থস্থান গুলির অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে আজও শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখিত হয় এই রাজ্যের কামাক্ষ্যা মন্দিরের নাম। পুরাকালে এই রাজ্যটিকে কামরূপ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মেঘালয়
ভারতবর্ষের
উত্তরপূর্বে অবস্থিত রাজ্যগুলির অন্যতম এই মেঘালয় রাজ্যটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরিসীম ভান্ডার যেন এই রাজ্য।আসাম রাজ্যের একেবারে কোল ঘেঁষে থাকা এই রাজ্যটি একসময় আসা্ম রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৭২
সালের ২১শে জানুয়ারি তৎকালীন
আসাম রাজ্যের খাসী, গারো এবং জয়ন্তিয়ার পার্বত্য জেলা
গুলিকে নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি রাজ্য গঠিত হয়, যা আজকের এই মেঘালয় রাজ্য। মেঘের আবাস স্থল হিসেবে খ্যাত এই পার্বত্য রাজ্যটির দক্ষিণে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ এবং সিলেট, পশ্চিমে বাংলাদেশের রংপুর আর উত্তরে এবং পূর্বে আসাম রাজ্য। ২০১৬ সালের জনগণনা অনুসারে এই রাজ্যের জনসংখ্যা মাত্র ৩২ লক্ষ ১১হাজার ৪৭৪ জন। রাজ্যের সরকারি ভাষা ইংরাজি। প্রাচীন নিয়ম মেনে আজো এই রাজ্যটি সম্পূর্ণ মাতৃতান্ত্রিক প্রথা মেনে চলে। বাড়ির সর্ব কনিষ্ঠ কন্যাটি উত্তরাধিকার সূত্রে বাবা মা'র সম্পত্তির অধিকার লাভ করে থাকেন এবং বয়স্ক মাতা পিতার দেখা শোনার ভার তার ওপরেই ন্যস্ত হয়।
কি ভাবে যাবেন।
বিমানপথে,
রেলপথে এবং সড়কপথে দেশের সমস্ত অংশের সাথে ভালো ভাবে যুক্ত রয়েছে আসাম রাজ্যের প্রধান শহর গৌহাটি। রাজধানী দিসপুরের গায়ে লাগোয়া এই শহরটি এই রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র। দেশের যে কোন জায়গা থেকে আপনি গৌহাটি আসবার ট্রেন পাবেন। একই রকম ভাবে প্রায় সবক’টি বড় শহর থেকেই বিমান এসে পৌঁছচ্ছে গৌহাটি শহরে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে এখানে পৌঁছচ্ছে জাতীয় রাজপথ। তাই দেশের যে কোন অংশ থেকেই অতি সহজে পৌঁছনো যায় গৌহাটি শহরে। এই শহর থেকেই আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করবো।
গৌহাটি-শিলং-চেরাপুঞ্জি-কাজিরাঙ্গা, আপনার সংক্ষিপ্ত ভ্রমণসূচী।
আসাম
এবং মেঘালয় ভ্রমণের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্কিটটি হলো গৌহাটি-শিলং-চেরাপুঞ্জি ও তার সাথে কাজিরাঙ্গা বেড়িয়ে নেওয়ার সার্কিটটি। ট্যুর প্রোগ্রামগুলি মোটামুটিভাবে এইরকমঃ
১) গৌহাটি ১ রাত, শিলং ৩ রাত, কাজিরাঙ্গা ১ রাত।
২) গৌহাটি ১ রাত, শিলং ৩ রাত, চেরাপুঞ্জি ১ রাত, কাজিরাঙ্গা ১ রাত।
৩) গৌহাটি ২ রাত, শিলং ৩ রাত, কাজিরাঙ্গা ১ রাত।
৪) গৌহাটি ১ রাত, শিলং ৪ রাত, কাজিরাঙ্গা ১ রাত।
আপনি প্লেনে অথবা ট্রেনে যেভাবেই আসুন না কেন, চেষ্টা করুন প্রথমদিন সকালবেলা গৌহাটি পৌঁছে যেতে। আজকাল শিলং শহরও সরাসরি বিমান পথে সংযুক্ত হয়েছে, তবে বিমান সঙ্খ্যা কম এবং সব শহর থেকে সরাসরি শিলং এখনো বায়ুপথে যুক্ত নয়, তাই গৌহাটি বিমানবন্দরে নেমেই শিলং আসা ভালো। গৌহাটি থেকে শিলং সড়ক পথে প্রায় ১০০ কিমি রাস্তা, গাড়িতে মোটামুটি তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা সময় লাগে।
এবারে আসুন দিন হিসেবে ট্যুর গুলি নিয়ে আলোচনা করা যাক। আমি এখানে মুখ্যতঃ প্রথম প্রোগ্রামটি নিয়ে আলোচনা করব। আপনার পছন্দমত এই ভাবেই বাকি প্রোগ্রাম গুলিও আপনি নিজেই করে নিতে পারবেন।
প্রথম দিনঃ
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
বিমান বন্দর অথবা রেল স্টেশন থেকে সোজা চলুন শিলং। শিলং শহরে ঢোকবার কিছু আগে পথে পড়বে বড়া পানি লেক, এই লেকের আরেক নাম উমিয়াম লেক। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। এই লেকে বোটিং করবার সুবন্দোবস্ত আছে। হোটেলে পৌঁছে তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে নিন। মধ্যাহ্ন ভোজনের পর শিলং লোকাল সাইট সিয়িং করতে চলুন।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
দেখে নিন ওয়ার্ডস লেক, লেডি হায়দার পার্ক, এলিফ্যান্ট ফলস, এবং পোলো গ্রাউন্ড।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
শিলং শহরে মিনি ক্যাব বা ছোট ট্যাক্সি সবসময় পাবেন, তবে নিজেদের মনের মত করে বেড়াবার জন্য নিজেদের ভাড়া করা গাড়ি থাকাই ভালো। সন্ধ্যের একটু আগে চলে আসুন শিলঙের প্রাণকেন্দ্র পুলিস বাজারে। জমজমাট এই জায়গায় মনের মত দরদাম করে কেনাকাটা সেরে নিতে পারেন।
দ্বিতীয় দিনঃ
যদি আপনি দ্বিতীয় প্রোগ্রামটি করতে চান তাহলে আজকে খুব তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে এবং জলখাবার খেয়ে আপনার লাগেজ সমেত বেরিয়ে পড়ুন অথবা প্রথম প্রোগ্রাম অনুসারে বিনা লাগেজেই চলুন বেড়িয়ে পড়ি।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
আজ আমরা চলেছি চেরাপুঞ্জি।শিলং থেকে চেরাপুঞ্জি প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরত্ব, গাড়ীতে প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় লাগবে পৌঁছতে। একসময় সবচেয়ে বেশী বৃষ্টিপাতের স্থান হিসেবে খ্যাতি ছিল চেরাপুঞ্জির, তবে এখন আর তা’ নেই। বিশ্বের সবচেয়ে বেশী বৃষ্টি পাতের স্থান হিসেবে এখন প্রথম স্থান অধিকার করেছে শিলং থেকে কাছেই আর একটি জায়গা, যার নাম মৌসীনরাম। তবে শিলং থেকে আমাদের প্রথম প্রোগ্রাম অনুসারে আমরা প্রথমেই যাব চেরাপুঞ্জি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরত্বে লিভিং রুট ব্রীজ দেখে নিতে।প্রকৃতির আশ্চর্য সৃষ্টি এই লিভিং রুট ব্রীজ। বড় বড় গাছগুলির শিকড় এবং ঝুরি জড়িয়ে জড়িয়ে এক ছোট্ট পাহাড়ী নদীর ওপরে প্রকৃতি আপন খেয়ালে তৈরি করেছে এক রীতিমতো মজবুত সেতু। অপূর্ব এই জায়গাটির পরিবেশ আপনাকে মুহূর্তে মুগ্ধ করবে।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
এর পরে চেরাপুঞ্জির মুখ্য দ্রষ্টব্য গুলির মধ্যে দেখুন নোহকালিখাই ফলস, সেভেন সিস্টার ফলস, রামকৃষ্ণ মিশন, এবং মাওসিমাই গুহা।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
যদি প্রথম প্রোগ্রাম অনুসারে চলছেন তাহলে এবার তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে চলুন শিলঙের দিকে, কারন শিলং শহরে পৌছবার কিছু আগে আজ দেখে নিন শিলং পিক। এটি একটি ভিউ পয়েন্ট। সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই স্থলটি। এখানে ঢুকতে গেলে অবশ্যই নিজের ভোটার আই ডি কার্ড দেখিয়ে নম্বর লিখিয়ে তারপর যাবেন। ওপর থেকে শিলং শহরের দৃশ্য এককথায় অতুলনীয়। আর যদি দ্বিতীয় প্রোগ্রাম অনুযায়ী চলছেন তাহলে আজ চেরাপুঞ্জিতেই রাত্রিবাস করুন। দ্বিতীয় প্রোগ্রাম অনুসারে চললে আজ আপনার লিভিং রুট ব্রীজ না দেখলেও চলবে।
তৃতীয় দিনঃ
আজকেও সকালে তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে জলখাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়ুন।শিলং থেকে আজ আমরা যাব এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাওলিননং দেখতে এবং তার সাথে দেখতে যাব বাংলাদেশ সীমান্তের ডাউকি। শিলং থেকে মাওলিননং প্রায় ৮০ কিলো মিটার রাস্তা, সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘন্টা। মাওলিননং দেখে নিয়ে চলুন ডাউকি। যারা দ্বিতীয় প্রোগ্রাম অনুযায়ী গতরাতে চেরাপুঞ্জিতে ছিলেন তারাও আজ অতি তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে প্রথমে দেখে নিন লিভিং রুট ব্রীজ, তারপরে চলুন মাওলিননং এবং ডাউকি দেখতে।
ডাউকি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে একটি নদীর নাম। মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়া পার্বত্য জেলার একটি ছোট শহরও এই ডাউকি। এক অসামান্য সুন্দর প্রকৃতি এখানে আপনাকে আবিষ্ট করবে। ডাউকিতে নদীর ওপর এক অসামান্য প্রাকৃতিক পরিবেশে একটি অতি সুন্দর ঝুলন্ত ব্রীজ রয়েছে, এটি ১৯৩২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার দ্বারা তৈরি হয়েছিল। ডাউকি দেখে ফিরে আসুন শিলঙে।
চতুর্থ দিনঃ
![]() |
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
তাড়াতাড়ি জলখাবার পর্ব মিটিয়ে লাগেজ সমেত বেড়িয়ে পড়ুন। আজ আমরা যাব কাজিরাঙা। আসামের এই সংরক্ষিত বনভূমিটি সারা পৃথিবীতে অত্যন্ত বিখ্যাত এখানকার একশৃঙ্গ ভারতীয় গন্ডারের জন্য।
![]() |
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
গন্ডার ছাড়াও হরিণ, হাতী, বুনো শুয়োর, এমনকি বাঘের ও দেখা পাওয়া যায় এই জঙ্গলে। শিলং থেকে কাজিরাঙার দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে সাত ঘন্টা, রাস্তায় যানজট থাকলে এই সময়টা আরো বাড়তে পারে, তাই অতি প্রত্যুষে তৈরি হয়ে সঙ্গে শুকনো খাবার দাবার নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন। যত তাড়াতাড়ি বেরোতে পারবেন ততই ভালো। যদি দুপুরের মধ্যে পৌঁছতে পারেন তাহলে সেইমতো কাজিরাঙ্গার হোটেল অথবা আপনার ট্যুর অপারেটরকে বলে রাখুন যা’তে আগে থেকে আপনার বিকেলের জিপ সাফারির ব্যবস্থা করে রাখা যায়।
![]() |
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
হোটেলে পৌছে দুপুরের খাওয়া শেষ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাফারির উদ্দ্যেশে বেড়িয়ে পড়ুন। সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে বিশ্রাম করুন। অনেক হোটেল আগে থেকে বলে রাখলে সন্ধ্যার সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
স্থানীয় অসমীয়া শিল্পীরা আসামের বিখ্যাত বিহু অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য। আপনাদের খুব ভালো লাগবে এই অনুষ্ঠান। এতে স্থানীয়
শিল্পীদের
উৎসাহ দেবার পাশাপাশি এদের কিছুটা আর্থিক সংস্থানও হয়ে থাকে।
পঞ্চম দিনঃ
অতি ভোরে তৈরি হয়ে নিন। আজ সকালে হাতীর পিঠে চেপে জঙ্গলে বেড়িয়ে আসুন। আগের দিন রাত্রেই আপনার হোটেল অথবা ট্যুর অপারেটরকে দিয়ে অবশ্যই এই সাফারির ব্যবস্থা করিয়ে রাখবেন। এই সাফারি কাজিরাঙা ভ্রমণের অন্যতম একটি আকর্ষণ হবার কারণে এবং চাহিদার তুলনায় ভ্রমণের হাতীর সংখ্যা কম হবার কারণে আগে থেকে বলা না থাকলে এর টিকিট পাওয়া সমস্যা হতে পারে। আগে থেকে কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কের ওয়েবসাইট দেখে আপনি সব ব্যবস্থা করে রাখতে পারেন। সকালের সাফারি শেষ করে তাড়াতাড়ি হোটেলে ফিরে আসুন। জলখাবার খেয়েই লাগেজ নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন। আজ আমরা চলেছি গৌহাটি। কাজিরাঙা থেকে গৌহাটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার রাস্তা। রাস্তাও মোটামুটি ভালোই। সময় লাগবে কম বেশি প্রায় চার ঘন্টা। দুপুরে যেহেতু গৌহাটির মুখ্য আকর্ষণ কামাখ্যা মন্দির বন্ধ থাকে তাই সবার আগে চলুন উমানন্দ ভৈরব মন্দির দেখতে।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
গৌহাটি শহরের সরকারি জেটি থেকে বড় সরকারি ভেসেল অথবা নৌকাতে চেপে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ভাসতে ভাসতে এই মন্দির দেখতে যাওয়া একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
তাড়াতাড়ি উমানন্দ ভৈরব দর্শন শেষ করে ফিরে চলুন সোজা কামাখ্যা মন্দির দেখতে। অতি প্রাচীন এই মন্দির ভারতের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থক্ষেত্র। এটি আমাদের দেশের ৫১টি সতী পীঠ গুলির অন্যতম একটি পীঠ। প্রতিদিনই পুন্যার্থীদের প্রবল ভিড় হয় এই মন্দিরে। বিশেষ করে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের বিশেষ তিথি অম্বুবাচীর সময় এই মন্দিরে অস্বাভাবিক ভিড় হয়। সারা ভারতবর্ষের বিভিন্ন অংশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত মায়ের শ্রী চরণে পূজা নিবেদনের উদ্দ্যেশে এখানে উপস্থিত হয়ে থাকেন সেই সময়।মন্দিরে পূজা দিয়ে চলুন বশিষ্ঠ মন্দির দেখতে।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
এরপর চলুন সন্ধ্যার অপরুপ আলোকমালায় সজ্জিত গৌহাটির শ্রী বালাজী মন্দির দেখতে। অনেকখানি জায়গা জুড়ে এই মন্দির কমপ্লেক্সটি এককথায় অনবদ্য। এখান থেকে চলুন হোটেলে।
| গৌহাটি-শিলং-কাজিরাঙ্গা ভ্রমণ |
ষষ্ঠ দিনঃ
জলখাবার
খেয়ে আপনার ট্রেন বা প্লেনের সময় অনুযায়ী যথাসময়ে রেলস্টশনে অথবা বিমান বন্দরে পৌঁছে যান।
এখানে
এতক্ষণ যে ভ্রমণ সূচী নিয়ে আলোচনা করলাম সেটিকে আপনার সময় ও পছন্দ মত পরিমার্জন করে নেবেন।আসাম এবং মেঘালয়ে আরো কয়েকটি অতি সুন্দর জায়গা রয়েছে, সে গুলিকেও আপনার সময় অনুযায়ী যুক্ত করে নিতে পারেন।
মেঘালয়ের কয়েকটি অল্প পরিচিত বেড়ানোর জায়গা।
১)
মাওলিংব্না(Mawlingbna):
বিশ্বের
সবচেয়ে বেশী বৃষ্টিপাত হয় যে জায়গায়, তার নাম মৌসিনরাম(Mawsynram)।
শিলং শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে পূর্ব খাসি পার্বত্য জেলার অন্তর্গত মৌসিনরাম যেতে সময় লাগবে প্রায় ঘন্টা দেড়েক। শিলং থেকে একদিনের ভ্রমণে মৌসিনরাম ঘুরে আবার রাত্রে ফিরে আসতে পারেন শিলং। এই মৌসিনরাম থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে মাওলিংব্না প্রথম দর্শনেই আপনার মন কেড়ে নেবে। পাহাড়
দিয়ে
ঘেরা এ এক অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ। এখানে দুটি অতি মনোরম ঝরনা রয়েছে। একটির নাম ‘উম দিয়েংকাইন’, এবং আর একটি ‘আর ফালাত’। আপনি
চাইলে এখানে একরাত থাকতেও পারেন। স্থানীয় উদ্যোগে বেশ কয়েকটি হোম স্টে বর্তমানে তৈরি হয়েছে এখানে।
২)
কোংথোং গ্রাম(Kong
Thong Village)
শিলং
থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কোং থোং এক আশ্চর্য গ্রাম। সম্ভবত এমন গ্রাম আর দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবেনা। কোংথোং গ্রামের আর এক নাম হুইসিলিং ভিলেজ(Whistling Village)বা সুরের গ্রাম। মাত্র ৬৫০ জন অধিবাসীর এই পাহাড়ী গ্রামটিতে বহু প্রাচীন কাল থেকে বংশ পরম্পরায় একটি ধারা চলে আসছে। প্রতি পরিবারের যে কোনো মা তার সন্তানদের জন্য একটি বিশেষ সুর শিষ দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি করেন। শিশুরা নিজেদের লোকজনদের সেই বিশেষ সুর দিয়ে ডাকে। স্থানীয় ভাষায় এই পারিবারিক সুরের প্রথাকে বলা হয় ‘জিংরোয়াই ইয়াবেই’। আপনার
ভাবতেই রোমাঞ্চ হবে যে ৬৫০ জন অধিবাসীর এই গ্রামে যুগযুগ ধরে প্রতিনিয়ত কত শত সহস্র স্বর্গীয় সুরের সৃষ্টি হয়ে চলেছে যার প্রত্যেকটি অন্যটির থেকে আলাদা। শিলং ভ্রমণের সময় হাতে যদি বাড়তি দিন থাকে
তাহলে
এই অসামান্য গ্রামটি ঘুরে আসতে পারেন।
আশাকরি আমার সঙ্গে বেড়াতে আপনাদের খারাপ লাগে নি। আপনাদের মুল্যবান মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে লিখে পাঠান। ধন্যবাদ।






0 মন্তব্যসমূহ
Please do not enter any spam link in the comment box.